বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: নগরীর ব্যস্ততম এলাকা লালদীঘির উত্তর-পশ্চিম কোণ, সোনালী ব্যাংক মোড়। সন্ধ্যার ছায়া ঘনিয়ে আসতেই এখানে জমে ওঠে এক বিচিত্র ‘চিকিৎসা কেন্দ্র’। সারি সারি সাজানো কাঁচের বয়াম, বিচিত্র সব শিকড়-বাকড়, শুকনো লতাপাতা আর অচেনা গুঁড়ো। পাশে হ্যান্ডমাইকে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা চলছে— “হার্ট ব্লক খুলে যাবে”, “ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এক রাতেই”, “ক্যান্সার থেকে মুক্তি”।
নিজেকে ‘হাকিম’ দাবি করা এক ব্যক্তি ৩৬ প্রকার জটিল রোগের ‘গ্যারান্টিযুক্ত’ চিকিৎসার পসরা সাজিয়ে বসেছেন এখানে।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, যে স্থানে এই অপচিকিৎসার হাট বসছে, তার মাত্র কয়েকশ মিটার দূরত্বেই জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রশাসনের নাকের ডগায় কোনো রাখঢাক ছাড়াই চলছে এই ভয়ংকর প্রতারণা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতে প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে বসে আছেন স্বঘোষিত এক কবিরাজ। তার সামনে সাজানো গুইসাপের শুকনো দেহ, বেজির খোলস আর ভেষজ দাবিকৃত শত শত শিশি। বাত-ব্যথা, প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে কিডনি ও হরমোনের মতো স্পর্শকাতর রোগের সমাধান মিলছে মাত্র ৭০ থেকে ৫০০ টাকায়। স্বল্প আয়ের মানুষ, বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল মানুষরা এই চটকদার প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে লুফে নিচ্ছেন এসব তথাকথিত ‘মহৌষধ’।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এক চিকিৎসক বলেন, “এসব ফুটপাতি তেল বা পাউডার খেয়ে প্রতিদিন মানুষ লিভার ও কিডনি অকেজো করে হাসপাতালে আসছেন। কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া এসব রাসায়নিক বা মিশ্রণ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মরণফাঁদ।”
সিটি করপোরেশনের রাস্তা, ফুটপাত দখল করে এমন অবৈধ ব্যবসা চালানো আইনত দণ্ডনীয় হলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অন্ধবিশ্বাসের বাণিজ্য লজ্জাজনক। কেন স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি করপোরেশন নীরব, তা বোধগম্য নয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ ল্যাব টেস্ট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এসব বিক্রি করা সরাসরি অপরাধ। এটি শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, বরং মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই অপচিকিৎসা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রামের সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত এই ‘হাকিমদের’ বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। জনস্বার্থ রক্ষায় সিভিল সার্জন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।
আপনার মতামত জানান: আপনার এলাকায় কি এমন অপচিকিৎসা চলতে দেখেছেন? প্রশাসনের কী ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?










