Home অন্যান্য আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

মওলানা মোহাম্মদ কাউসার: মহররম মাসের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমল হলো আশুরার রোজা পালন করা। সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০ মহররম রোজা রেখেছেন। ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কেবল ১০ তারিখে রোজা রাখতো এবং এই দিনটিকে বিশেষভাবে সম্মান করতো। রাসুল (সা.) তাদের অনুসরণ না করে বরং ভিন্নতা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন ১০ মহররমের সঙ্গে এক দিন বাড়িয়ে ৯ বা ১১ তারিখে মিলিয়ে রোজা রাখতে।

রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা ও সাহাবিদের প্রশ্ন:
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দিলে সাহাবারা জিজ্ঞেস করেন, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরাও তো এই দিনটিকে সম্মান করে রোজা রাখে। তখন রাসুল (সা.) বলেন, “পরবর্তী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ ৯ তারিখেও রোজা রাখবো।” তবে সেই বছর আসার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।

অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, “তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখো এবং ইহুদিদের বিরোধিতা করো। এক দিন আগে বা পরে মিলিয়ে রোজা রাখো।”

রোজার ফজিলত ও মর্যাদা:
আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ (ছোটখাটো) ক্ষমার উপায় এই রোজা। আবু ক্বাতাদাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, “আমি আশা করি, আল্লাহ আশুরার রোজার বিনিময়ে গত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।”

আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় আরও এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, “রমজানের পর শ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস—মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের তাহাজ্জুদের নামাজ।”

রোজা রাখার ঐতিহাসিক পটভূমি:
আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনস্বীকার্য। এই দিনে আল্লাহ ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেন এবং নবী মূসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের রক্ষা করেন। সেই শুকরিয়া হিসেবে মূসা (আ.) এদিন রোজা রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদীনায় এসে এই ঘটনাটি জানতে পেরে বলেন, “মূসা (আ.)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি।” এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং তাঁর উম্মতকেও রোজা রাখার আদেশ দেন।

সুন্নত রোজার দিন:
তাই সুন্নত হলো—৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম- এই দুটি দিন রোজা রাখা। কেবল ১০ তারিখে রোজা রাখাই যথেষ্ট নয়, বরং ভিন্নতা বজায় রাখতে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা উত্তম।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
মহররম মাস ও আশুরার উপলক্ষে রোজা ব্যতীত অন্য কোনো বিশেষ ইবাদত বা আমল হাদিসে সুন্নত হিসেবে নির্ধারিত হয়নি। তাই কেবল হাদিসভিত্তিক আমল করাই উত্তম ও নিরাপদ।