জাহের মো. আলাউদ্দিন খান, চট্টগ্রাম: সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের এসি দত্ত লেন এলাকাটি এখন এক বিশাল ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় কোনো স্থায়ী ডাস্টবিন না থাকায় সড়কের ওপরই ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালির যাবতীয় বর্জ্য। এতে একদিকে যেমন অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
সরজমিন চিত্র ও জনদুর্ভোগ
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসি দত্ত লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে আছে পচা আবর্জনার স্তূপ। ড্রেন উপচে পড়া নোংরা পানি আর প্লাস্টিক বর্জ্যের সংমিশ্রণে পথ চলাই দায় হয়ে পড়েছে। এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন মুসলিম হাই স্কুল ও মেনকা স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম আদালত ভবনের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরাও নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন। আবর্জনার কারণে বাতাসের দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।
রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা ময়লার কারণে সরু হয়ে গেছে মূল সড়কটি। এতে করে অটোরিকশা বা জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়; ময়লা পানি ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাস্তায়।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক সময় এখানে একটি নির্ধারিত ডাস্ট পয়েন্ট থাকলেও বর্তমানে সেটি নেই। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে দিনে কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। সামনেই স্কুল আর মসজিদ। কিন্তু ময়লার গন্ধে দোকানে বসে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই চসিক দ্রুত এখানে একটি আধুনিক ডাস্টবিন স্থাপন করুক।”
মেনকা বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, “স্কুলের ঠিক পাশেই ময়লার স্তূপ। বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ময়লাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার রাস্তা ভরে যায়।”
চসিকের নিকট এলাকাবাসীর আবেদন
এসি দত্ত লেনের বাসিন্দারা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন, এলাকায় কোনো স্থায়ী ডাস্টবিন না থাকায় বায়তুন নূর জামে মসজিদের মুসল্লি এবং স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাসিন্দারা এলাকায় সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো এবং একটি আধুনিক ও স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
জনস্বার্থ বিবেচনা করে চসিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।