Home আন্তর্জাতিক কোল-এর ইশতেহারে হত্যার ছক: রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে ট্রাম্পকে টার্গেট

কোল-এর ইশতেহারে হত্যার ছক: রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে ট্রাম্পকে টার্গেট

গুলির শব্দ শোনা মাত্রই নিরাপত্তা কর্মীরা ট্রাম্পকে বলরুম থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টা সিক্রেট সার্ভিসের অদক্ষতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে  ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারের মতো স্পর্শকাতর অনুষ্ঠানে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা কেবল গোয়েন্দা ব্যর্থতাই নয়, বরং অভিযানের সময় সিক্রেট সার্ভিসের অদক্ষতাকেও নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে। ফলে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে ঘিরে নতুন করে প্রাণনাশের আতঙ্ক ঘনীভূত হচ্ছে।
নিরাপত্তার জাল ছিঁড়ে হামলাকারীর অনুপ্রবেশ
তদন্তে জানা গেছে, কোল টমাস অ্যালেন নামের ৩১ বছর বয়সী ওই হামলাকারী লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে এসে আগেভাগেই একই হোটেলে অবস্থান নেন। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি যখন আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তাকে থামানোর মতো পর্যাপ্ত বাধা সেখানে ছিল না।
অ্যালেন যদি সেখানে হোঁচট খেয়ে পড়ে না যেতেন, তবে বড় ধরনের রক্তপাত অনিবার্য ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ‘নিরাপত্তা ছিদ্র’ আবারও প্রশ্ন তুলেছে যে, হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিক্রেট সার্ভিস কতটা প্রস্তুত।
সিক্রেট সার্ভিসের মিসফায়ার ও বিভ্রান্তি
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা প্রতিরোধের ধরন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ স্বীকার করেছেন, এক এজেন্ট হামলাকারীকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছুড়লেও তার একটিও লক্ষ্যভেদ করেনি। উপরন্তু, ফরেনসিক তথ্যে জানা গেছে, এক এজেন্টের বুকে যে গুলি লেগেছে তা হামলাকারীর নয়, বরং সহকর্মীর ছোড়া ভুল গুলি বা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই ‘মিসফায়ার’ বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়ে জনমনে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।
ইশতেহারে চরমপন্থার ইঙ্গিত
হামলাকারী কোল অ্যালেন ধরা পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তার পরিবারকে পাঠানো এক ইশতেহারে বা মেনিফেস্টোতে নিজেকে একজন ঘাতক হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে সুদূর ওয়াশিংটনে এসে হামলা চালানোর এই পরিকল্পনা কোনো একক ব্যক্তির উন্মাদনা নাকি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে।
আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাটলারের হামলার পর ২০২৬ সালের এই নতুন প্রচেষ্টা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও সিক্রেট সার্ভিস দাবি করছে তারা তাদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের চোখে এটি একটি বিশাল ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে বাড়তি উত্তাপ ছড়াবে।
আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com