Home অন্যান্য নারীদের হাতে গড়া জ্বালানির সেই দিনগুলো

নারীদের হাতে গড়া জ্বালানির সেই দিনগুলো

ঘুঁটে বানানো ছিল জীবিকা

 মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম:

একটা সময় ছিল, যখন গ্রামের প্রতিটি উঠোনেই শোভা পেত সারি সারি ঘুঁটে। গরুর গোবর দিয়ে নারীরা তৈরি করতেন রান্নার জ্বালানি—এই ঘুঁটে ছিল শুধু জ্বালানি নয়, জীবিকারও উৎস। সকালবেলা উঠে গরুর গোবর সংগ্রহ, তারপর তাতে খড় বা ধানের তুষ মিশিয়ে আকারে আকারে থেঁতো করে শুকাতে দেওয়া—এই ছিল দিন শুরু হওয়ার গল্প।

এই পেশাটি শুধু জীবিকার মাধ্যম ছিল না, ছিল নারীর অঘোষিত শ্রমের একটি রূপ। স্বামী মাঠে কাজ করতেন, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেত, আর ঘরের উঠোনে বসে ঘুঁটে তৈরি করতেন নারীরা। অনেকে তা বিক্রি করতেন হাটে-বাজারে। পয়সা হয়তো বেশি পেতেন না, কিন্তু নিজ হাতে উপার্জনের এক অনন্য গর্ব ছিল চোখেমুখে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর গুমানমর্দ্দনের ফাতেমা খাতুন বলছিলেন, “আমার শ্বাশুড়ি ছিলেন ঘুঁটে বানানোর কারিগর। কী নিখুঁতভাবে বানাতেন! শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটির ওপর এমনভাবে গাঁথতেন, যেন শিল্পকর্ম।” ঘুঁটে বিক্রি করে তিনি শাড়ি কিনেছেন, ছেলে-মেয়ের ওষুধ এনেছেন—এমন গল্প আছে বহু ঘরে।

তবে সময় বদলেছে। গ্যাস সিলিন্ডার, বিদ্যুৎচালিত চুলা, এমনকি পেট্রোলিয়াম-নির্ভর জ্বালানি এখন গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ফলাফল—ঘুঁটে বানানোর চাহিদা কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। নতুন প্রজন্ম জানেই না এই পেশার অস্তিত্ব।

ঘুঁটে বানানোর এই শিল্পে নারীর শারীরিক শ্রম থাকলেও এর মধ্যে ছিল এক প্রকার সাংস্কৃতিক চর্চা। কাঁচা ঘুঁটে শুকিয়ে নেওয়ার পর যে ‘ঘুঁটেঘর’ তৈরি হতো উঠোনে, তা দেখে বোঝা যেত কোন বাড়ির কত উৎপাদন। অনেকে প্রতিযোগিতা করতেন কে বেশি এবং সুন্দর ঘুঁটে তৈরি করতে পারেন।

এখন সেই উঠোনগুলো পাকা হয়েছে, গরু নেই, গোবর নেই। ফাতেমা খাতুন বলেন, “আমার নাতনিরা জানেই না ঘুঁটে কী। ওরা তো মোবাইলে ব্যস্ত থাকে।”

প্রযুক্তির অগ্রগতির এই সময়ে ঘুঁটে বানানোর মতো অনেক পেশাই হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এইসব পেশা ছিল একেকটি গ্রামীণ জীবনের প্রামাণ্য দলিল। ভবিষ্যতের প্রজন্ম জানবে তো এই সব গল্প?


📣 Call to Action:

এমন আরও হারিয়ে যাওয়া জীবিকার গল্প পেতে আমাদের ফলো করুন ও লাইক দিন: [BusinessToday24.com]

📲  ওয়েবে খুঁজুন BusinessToday24
📰 ‌”জীবিকার গল্পে জীবনের ছাপ” — আমরা আছি সেই ছাপ তুলে ধরতে!