কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির নিচে জমা হওয়া পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল বা ‘ঘোস্ট নেট’ এখন সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, সমুদ্রের তলদেশে কয়েকশ বছর ধরে অক্ষত থাকা এসব সিনথেটিক জাল বাস্তুসংস্থানের অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
এই সংকট মোকাবিলায় গবেষকরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে জাল অপসারণে বিশেষ অভিযান এবং জেলেদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জোর সুপারিশ করেছেন।
নিঃশব্দ শিকারি ‘ঘোস্ট নেট’ গবেষকদের মতে, জেলেরা যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ছেঁড়া জাল সাগরে ফেলে দেয়, তখন সেগুলো সমুদ্রের তলদেশে ‘ঘোস্ট নেট’ বা প্রেতাত্মা জালে পরিণত হয়। এই জালগুলো সমুদ্রের স্রোতের সাথে ভেসে বেড়ায় অথবা প্রবাল প্রাচীরে আটকে থাকে। এতে আটকা পড়ে কচ্ছপ, ডলফিন এবং বিভিন্ন বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। যেহেতু এই জালগুলো নাইলন বা প্লাস্টিক জাতীয় তন্তু দিয়ে তৈরি, তাই এগুলো পচতে প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ বছর সময় লাগে।
গবেষকদের সুপারিশ ও সমাধান গবেষণা প্রতিবেদনে এই সংকট নিরসনে কয়েকটি কার্যকরী পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে:
১. বিশেষ উদ্ধার অভিযান: গভীর সমুদ্রের নির্দিষ্ট হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে তলদেশ থেকে পরিত্যক্ত জাল সরিয়ে ফেলার জন্য বিশেষ সরকারি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
২. জেলেদের জন্য প্রণোদনা: জেলেরা যাতে ছেঁড়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া জাল সাগরে না ফেলে তীরে ফিরিয়ে আনে, সেজন্য তাদের আর্থিক পুরস্কার বা নতুন জাল কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভর্তুকি বা প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৩. জালের ট্র্যাকিং সিস্টেম: প্রতিটি মাছ ধরার জালে জিপিএস ট্র্যাকার বা বিশেষ ট্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো জাল হারিয়ে গেলে তার অবস্থান সহজে শনাক্ত করা যায়।
নীল অর্থনীতির ওপর আঘাত সামুদ্রিক সম্পদকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের যে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির স্বপ্ন, তার পথে বড় বাধা এই প্লাস্টিক দূষণ ও ঘোস্ট নেট। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এখনই এই জালগুলো অপসারণ করা না হয়, তবে সেন্ট মার্টিনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রবাল প্রাচীর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি মৎস্য উৎপাদন কমিয়ে দেবে।
পরিবেশবিদদের মতে, সমুদ্রের তলদেশ পরিষ্কার রাখা কেবল পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, বরং এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার সাথেও জড়িত। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন www.businesstoday24.com। সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই বিষাক্ত জাল সরাতে আপনার কোনো উদ্ভাবনী আইডিয়া আছে কি? মন্তব্য করে আমাদের জানান।