Home First Lead ১০ দলের সমঝোতা সম্পন্ন: জামায়াতের হাতে ১৭৯ আসন, কী করবে ইসলামী আন্দোলন?

১০ দলের সমঝোতা সম্পন্ন: জামায়াতের হাতে ১৭৯ আসন, কী করবে ইসলামী আন্দোলন?

ছবি সংগৃহীত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১-দলীয় জোটের আসন বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই আপাতত জোটের শরিকদের মধ্যে ২৫৩টি আসনের সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

আসন বণ্টনের সমীকরণ

জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী সিংহভাগ আসন নিজের করে নিয়েছে। ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী দলগুলোর আসন বিন্যাস নিম্নরূপ:

দলের নাম বরাদ্দকৃত আসন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯
ন্যাশনালিস্ট কনগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ৩০
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০
খেলাফত মজলিস ১০
এলডিপি ০৭
এবি পার্টি ০৩
নেজামে ইসলাম পার্টি ০২
ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ০২

ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ ও অনিশ্চয়তা

সংবাদ সম্মেলনে নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৩টিতে সমঝোতা হলেও বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪০-৪৫টি আসন আলাদা করে রাখা হয়েছে। এছাড়া জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনের জন্য একটি করে আসন রাখা হতে পারে।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “ইসলামী আন্দোলন আজ আমাদের সাথে উপস্থিত নেই, তবে তাদের সাথে আলোচনা চলছে। আমরা আশাবাদী তারা দ্রুতই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানাবে।”

ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান

আসন সমঝোতার এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জোটের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করতে আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় তারা নিজস্ব সংবাদ সম্মেলন করবে। এর আগে দুপুরে ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই জোটের অন্য ১০ শরিক দল জরুরি বৈঠক সম্পন্ন করে।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া প্রমুখ।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত এই জোটে যোগ দেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই নির্বাচনী মোর্চার প্রকৃত শক্তি ও ভোটের মাঠের সমীকরণ।