নজরুল সঙ্গীতের আকাশ থেকে ঝরে গেল আরও একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম কণ্ঠযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। ক্যানসার জয় করে ফিরলেও শেষ রক্ষা হলো না। আজ তাঁর জীবনযুদ্ধের অবসান ঘটে। গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর খালাতো বোন ও প্রথিতযশা সঙ্গীতশিল্পী সাদিয়া আফরীন মল্লিক।
ডালিয়া নওশীনের রক্তে ছিল সুর। ১৯৫৫ সালে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর বাবা ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলাম। বাবার কাছ থেকেই তিনি গান গাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কিংবদন্তি সুধীন দাশের হাত ধরে তাঁর সঙ্গীতের হাতেখড়ি।
উত্তর ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত ও নজরুল সঙ্গীতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ১৯৭৩ সালে ছায়ানট থেকে উচ্চতর শিক্ষা শেষ করে তিনি ভারতের প্রথিতযশা ওস্তাদদের কাছেও তালিম নিয়েছিলেন।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর গাওয়া গানগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছিল। সেই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গানের সাথেই ছিলেন। ৭০ বছর পার করেও মঞ্চ কিংবা টেলিভিশনে গাইতে দেখা যেত এই প্রাণবন্ত শিল্পীকে।
সঙ্গীতাঙ্গনে শোকের ছায়া
ডালিয়া নওশীনের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সঙ্গীতাঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে। ইয়াসমিন মুশতারি, ফারহিন খান জয়িতাসহ সমসাময়িক ও কনিষ্ঠ শিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ডালিয়া নওশীনের চলে যাওয়া মানে নজরুল সঙ্গীতের একটি যুগের অবসান।
মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য ভক্ত, গুণগ্রাহী এবং স্মৃতি রেখে গেছেন। তাঁর গাওয়া গানগুলোর মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন এ দেশের মানুষের হৃদয়ে।