Home Second Lead ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিনও এদিক-সেদিক হবে না: মার্কিন প্রতিনিধিদের ড. ইউনূস

১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন, একদিনও এদিক-সেদিক হবে না: মার্কিন প্রতিনিধিদের ড. ইউনূস

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই দেশে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই এবং সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—অ্যালবার্ট গোম্বিস এবং মোর্স ট্যানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্ধারিত সময়েই ভোট
নির্বাচন ঘিরে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি উড়িয়ে দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না; নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে—একদিন আগেও না, একদিন পরেও না।” তিনি জানান, ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং ফলাফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে নিয়মমাফিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
জুলাই সনদ ও সংস্কারের রূপরেখা
নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে আয়োজিত গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, সরকার এই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই সনদ অনুমোদিত হলে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে এবং এক নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি হবে।
অপপ্রচার ও এআই চ্যালেঞ্জ
সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের দোসররা এআই-জেনারেটেড ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা এই অপপ্রচার রুখে দিতে সক্ষম। সাবেক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালবার্ট গোম্বিসও এই বিষয়ে একমত পোষণ করে ভুয়া খবরকে গণতন্ত্রের ‘অন্যতম প্রধান শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সত্য ও পুনর্মিলন নিয়ে অবস্থান
দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে কোনো ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ (সত্য ও পুনর্মিলন) উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব কি না—মার্কিন প্রতিনিধিদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “এর জন্য অপরাধ স্বীকার এবং অনুশোচনা প্রয়োজন। কিন্তু সাবেক শাসনামলের লোকজন এখনো তাদের বর্বর অপরাধের কথা অস্বীকার করে যাচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে এমন কোনো উদ্যোগের পরিবেশ তৈরি হয়নি।”
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা
ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, জুলাই বিপ্লবে তরুণ প্রজন্মের উত্থান এবং জুলাই-উত্তর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন প্রতিনিধিরা গত দেড় বছরে বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
বৈঠকে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।