Home Second Lead নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার

১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোট: যমুনায় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাক: নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার অনিশ্চয়তার অবকাশ নেই উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদার
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিসি ক্যামেরা: জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে।
বডি ক্যামেরা: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে।
মনিটরিং: একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে এবং ফুটেজ রেকর্ড রাখা হবে যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
হটলাইন: সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণের জন্য নির্বাচনের সময় একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর দ্বিমুখী প্রচারণা
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২২ জানুয়ারি থেকে গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণা একসাথেই চলবে বলে নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
গণভোট ও আইনি ব্যাখ্যা
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণার বৈধতা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হলো সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো ‘গোজামিলের’ নির্বাচন হবে না।
বিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক ঐকমত্য
স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও অংশীজনদের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
বৈঠকে জামায়াত নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং রফিকুল ইসলাম খান। সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান এবং মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।