Home First Lead বন্ধের পথে ফিলিং স্টেশন, দিশেহারা চালকরা

বন্ধের পথে ফিলিং স্টেশন, দিশেহারা চালকরা

ছবি এ আই

অটোগ্যাস সংকটে স্থবির পরিবহন খাত

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশে চলমান তীব্র এলপিজি সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবহন খাত। জ্বালানি না পেয়ে সারা দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন এখন কার্যত অচল। ফলে দেড় লাখেরও বেশি এলপিজিচালিত যানবাহনের চাকা থমকে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল মাওলা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন । ছবি: সংগৃহীত
ভোগান্তির চরমে চালক ও মালিকরা:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ স্টেশন গ্যাসশূন্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। সিরাজুল মাওলা বলেন, “এটি এখন আর কেবল ব্যবসায়িক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বড় আঘাত।” ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিস্তি পরিশোধ আর সংসার চালানোই এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুমকির মুখে বিনিয়োগ ও শিল্প:
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার হয় যানবাহন খাতে। এই সামান্য পরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মালিক সমিতি।
স্টেশন মালিকরা জানান, দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় তারা ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কর্মচারীদের বেতন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে বিপুল বিনিয়োগের এই পরিবেশবান্ধব শিল্পটি অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উত্তরণে ৬ দফা দাবি:
সংকট মোকাবিলায় সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান হলো— অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক করা এবং বিইআরসি (BERC) কর্তৃক সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে বিকল্প এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি খাতের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।