২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইতিহাসের বৃহত্তম ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া জোরালো করেছে ফিফা। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর নাম এক বিশেষ উন্মাদনা তৈরি করেছে।
টিকিটের আকাশচুম্বী দাম ও চাহিদা
ফিফা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টিকিট জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপের টিকিটের চাহিদাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম নিয়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনাল ম্যাচের ভিআইপি এবং ক্যাটাগরি-১ টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০,৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ টাকারও বেশি। সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম তুলনামূলক কম হলেও ফাইনালের উত্তাপ ও চাহিদার কারণে সেকেন্ডারি মার্কেটে এর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৫২ বছর পর কঙ্গোর রূপকথা
২০২৬ বিশ্বকাপের মূল আসরে বড় চমক হিসেবে হাজির হচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো। দীর্ঘ ৫২ বছর পর তারা বিশ্বকাপের মূল আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সর্বশেষ ১৯৭৪ সালে ‘জায়ার’ নামে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ দশকের খরা কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে তাদের এই প্রত্যাবর্তনকে ‘আফ্রিকান ফুটবলের রূপকথা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
প্রস্তুতির শেষ মুহূর্ত
তিনটি দেশের মোট ১৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট। ফিফা সভাপতি জানিয়েছেন, যাতায়াত ব্যবস্থা, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং দর্শকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে আয়োজক শহরগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেক্সিকোর আজটেকা স্টেডিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়াম এবং টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে সংস্কার কাজ প্রায় শেষ।
বিশাল এই কর্মযজ্ঞ এবং মাঠের লড়াই দেখতে সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীরা এখন ক্ষণগণনা শুরু করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং বাণিজ্য ও বিনোদনের এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।