বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে আমরা অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পেল।’ তিনি আরও জানান, ফরেনসিক তথ্য, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই একমাত্র কাম্য ছিল।
রেকর্ড গড়া মামলার আপডেট
গত ১৯ মে পল্লবীর নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। লাশ চিরতরে গুম করার উদ্দেশ্যে নরপশুরা শিশুটির দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে এবং তার মাথা একটি পানির বালতির ভেতর লুকিয়ে রাখে। ঘটনার পরদিন ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ও দ্রুততম আইনি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। ঘটনার চার দিনের মাথায় গত ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন মাত্র একদিনে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করেন আদালত। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এই চূড়ান্ত রায় দেন।
জনসাধারণের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। দ্রুততম সময়ে আদালত কর্তৃক এই রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে এক স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, বাংলাদেশে অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “যেভাবে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার সম্পন্ন হলো, তা দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।” আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত উৎসুক জনতাও রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত এই ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশু এমন নৃশংসতার শিকার না হয়।
সবশেষে, নিত্যদিনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সব খবরের আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করার এবং এই রায়ের বিষয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য করার অনুরোধ রইল।










