বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, লালমনিরহাট: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ ও আদিতমারী) আসনে বইছে সরগরম নির্বাচনী হাওয়া। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে পাল্টে যেতে শুরু করেছে অতীতের সকল হিসাব-নিকাশ।
তিন শক্তির লড়াই
১৬টি ইউনিয়ন ও ৪ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ জন ভোটারের এই আসনে মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল (জনতার দল): টানা সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মজিবুর রহমানের পুত্র হিসেবে বাবার ইমেজ ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি। নবগঠিত ‘জনতার দল’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এবার বড় চমক।
রোকনউদ্দিন বাবুল (বিএনপি): ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলেও তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। মনোনয়নবঞ্চিত এক হেভিওয়েট নেতার অনুসারীদের প্রকাশ্য বিরোধিতা ও শরিক দল জামায়াতের আলাদা প্রার্থী থাকায় চাপে রয়েছেন তিনি।
ফিরোজ হায়দার লাভলু (জামায়াতে ইসলামী): দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন তিনি।
ভোট ব্যাংক দখলের লড়াই
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনের বিশাল ‘ভোট ব্যাংক’ এখন কার দিকে যাবে, তা-ই বড় প্রশ্ন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য: ১. যোগদান বনাম গোপন সমর্থন: গ্রেফতার এড়াতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেক ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগ দিলেও সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের বড় একটি অংশ গোপনে শামীম কামালের পক্ষে কাজ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ২. সংখ্যালঘু ও লাঙ্গল-নৌকার ভোট: জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের ভিত্তি এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটগুলো নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জনতার দল। শামীম কামালের ক্লিন ইমেজ ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিএনপির রোকনউদ্দিন বাবুলকে একদিকে যেমন জামায়াত প্রার্থীর শক্ত অবস্থান মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে তার নিজ দলের একটি বড় অংশের বিরোধিতাও জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাহফুজুর রহমানও নীরবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা নির্দিষ্ট কিছু ভোট ভাগ করতে পারে।
চূড়ান্ত সমীকরণ
কালীগঞ্জ ও আদিতমারীর সাধারণ ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে মূলত নিরপেক্ষ ও আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যায় তার ওপর। যদি সাবেক এমপি মজিবুর রহমানের অনুসারী এবং আওয়ামী লীগের ভোটগুলো শামীম কামালের বাক্সে জমা হয়, তবে লালমনিরহাট-২ আসনের ফলাফল অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
সাতবারের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে শামীম কামাল কি পারবেন বাবার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে, নাকি ধানের শীষ কিংবা দাঁড়িপাল্লার জয় হবে—তা সময়ই বলে দেবে।