Home Second Lead গ্রিন শিপ রিসাইক্লিংয়ে বিশ্বজয়: রানার্সআপ বাংলাদেশ

গ্রিন শিপ রিসাইক্লিংয়ে বিশ্বজয়: রানার্সআপ বাংলাদেশ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন (HKC) অনুযায়ী অফিসিয়াল তালিকায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ১৭টি ইয়ার্ড চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভ করেছে।
এই গৌরবময় অর্জনের মাধ্যমে তুরস্কের (১৮টি ইয়ার্ড) ঠিক পরপরই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইএমও-কমপ্লায়েন্ট সবুজ ও নিরাপদ শিপ রিসাইক্লিং হাবে পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য মহলে দেশের ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ
এক সময় অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হওয়া এই খাতটি গত কয়েক বছরে আমূল বদলে গেছে। বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ড মালিকরা গত দুই বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে ইয়ার্ডগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে:
  • অনমনীয় ও তরল-অভেদ্য মেঝে (Impermeable Flooring)
  • অত্যাধুনিক ক্ষতিকারক বর্জ্য শোধন প্ল্যান্ট (Hazardous Waste Treatment Plant)
  • উন্নত ফায়ার ফাইটিং ও মনিটরিং প্রযুক্তি
  • শ্রমিকদের সর্বোচ্চ পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা
বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডে সূত্রে জানা যায়, হংকং কনভেনশনের শর্ত পূরণ করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আইএমও-র কাছে কমপ্লায়েন্ট ইয়ার্ডের তালিকা জমা দিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনসহ প্রায় ৩০টি পরিবেশবান্ধব ইয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে। জুনে এই তালিকা আপডেট করা হলে বাংলাদেশ বিশ্ব তালিকায় শীর্ষস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের স্থানীয় স্টিল ও রি-রোলিং শিল্পের কাঁচামালের একটি বিশাল অংশ আসে এই স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে। বছরে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করে এই শিল্প দেশের আবাসন ও অবকাঠামো খাতের স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।
তবে এই বিশাল বৈশ্বিক স্বীকৃতির মাঝেও আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রেইট রেটের ওঠানামা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিতে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৫ সালের পর গত বছরে জাহাজ আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও, পরিবেশবান্ধব গ্রিন ইয়ার্ডের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও লাভজনক করবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
 businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য লিখে আমাদের সাথেই থাকুন।