Home Second Lead বৈশ্বিক মন্দা ও শুল্কনীতির থাবা: বিপর্যস্ত বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

বৈশ্বিক মন্দা ও শুল্কনীতির থাবা: বিপর্যস্ত বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি

ফরিদুল আলম, ঢাকা: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতে আশঙ্কাজনক মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই (জুলাই-ডিসেম্বর) বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ২.৬৩ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে এই পতন অব্যাহত রয়েছে।
ধসের পরিসংখ্যান: ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড পতন
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ। এ মাসে মোট ৩২৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৭৭ কোটি ৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে ওভেন ও নিট—উভয় খাতের চিত্রই নেতিবাচক। নিট পোশাকে পতন হয়েছে ১৩.৭৪ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে কমেছে ১৪.৭১ শতাংশ।
গত পাঁচ মাসের চিত্র:
  • আগস্ট: ৪.৭৫% হ্রাস
  • সেপ্টেম্বর: ৫.৬৬% হ্রাস
  • অক্টোবর: ৮.৩৯% হ্রাস
  • নভেম্বর: ৫.০০% হ্রাস
  • ডিসেম্বর: ১৪.২৩% হ্রাস
কেন কমছে রপ্তানি?
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা এই ধসের পেছনে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন: ১. বৈশ্বিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতি: মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অর্ডারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। ২. মার্কিন শুল্কনীতি ও প্রতিযোগিতা: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে চীন ও ভারতের ব্যবসায়ীরা এখন ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা করছে, যার ফলে বাংলাদেশ সেখানে বাজার হারাচ্ছে। ৩. অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: দেশে রাজনৈতিক সরকার না থাকা এবং সার্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে দ্বিধাগ্রস্ত। ৪. অর্ডার স্থানান্তর: রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অনেক অর্ডার প্রতিবেশি দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে।
বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের আদেশ পাচ্ছি না। বায়াররা নতুন অর্ডার দিতে সময় নিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আয়ে।”
তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, ২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে রপ্তানি সামান্য (০.৮৯%) বেড়েছে। ২০২৪ সালের ৩,৮৪৮ কোটি ডলারের বিপরীতে ২০২৫ সালে মোট ৩,৮৮২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। বছরের শুরুর দিকের প্রবৃদ্ধির কারণেই মূলত এই ইতিবাচক ফলাফল রক্ষা পেয়েছে।