Home Third Lead প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগে নতুন দিগন্ত: গেজেটে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটার’ প্রথার স্বীকৃতি

প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগে নতুন দিগন্ত: গেজেটে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটার’ প্রথার স্বীকৃতি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে সরকার রিক্রুটিং এজেন্টদের কাজের পরিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। গত ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স এবং সাব-এজেন্ট নিবন্ধন ও আচরণ) বিধিমালা, ২০২৩’ সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটার’ বা সহযোগী রিক্রুটার ধারণাটি প্রবর্তন করা হয়েছে।

সরকার এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত রিক্রুটিং এজেন্টদের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আইনি কাঠামো প্রদান করেছে। গেজেটে উল্লিখিত প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-

অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটারের সংজ্ঞা: এখন থেকে একটি নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্ট অন্য একটি নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্টের সাথে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে। এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি মূল এজেন্টের পক্ষে বিদেশের কর্মী নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করবে।

চুক্তিবদ্ধ কর্মসংস্থান: গেজেট অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটারের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের সাথেও যথাযথ চুক্তি থাকতে হবে। এর ফলে কর্মীদের নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।

ক্রেডিট ও দায়-দায়িত্ব ভাগাভাগি: জনশক্তি রপ্তানি ও প্রক্রিয়া সম্পাদনে যে অংশটুকু যে রিক্রুটার সম্পন্ন করবেন, তার কৃতিত্ব (Credit) ও দায়-দায়িত্ব (Liability) সেই অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। এটি লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

আর্থিক নিরাপত্তা বিধানে সংশোধন: গেজেটের ৩ নম্বর দফায় তফসিল-১ এর একটি আর্থিক সংখ্যা পরিবর্তন করে ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৩৫ (পয়ত্রিশ) লক্ষ টাকা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রক্রিয়ার কিছুটা সহজীকরণ নির্দেশ করে।

এই সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে:

১. মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান: দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে অবৈধ ‘দালাল’ বা অননুমোদিত সাব-এজেন্টদের দৌরাত্ম্য ছিল। এখন ছোট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বড় এজেন্সির সাথে ‘অ্যাসোসিয়েট’ হিসেবে বৈধভাবে কাজ করতে পারবে। এতে করে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি নজরদারির আওতায় আসবে।

২. দায়বদ্ধতা নির্ধারণ: আগে কোনো কর্মী বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হলে এজেন্সিগুলো একে অপরের ওপর দোষ চাপাতো। নতুন বিধিমালায় ‘অংশীদারিত্ব অনুযায়ী দায়-দায়িত্ব’ (Liability) নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় এখন সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধী বা দায়ী প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা সহজ হবে।

৩. লাইসেন্স নবায়নে স্বচ্ছতা: অনেক সময় ছোট এজেন্সি কাজ করলেও বড় এজেন্সি সব কৃতিত্ব নিয়ে নিত। এখন কাজের পরিমাণ অনুযায়ী ‘ক্রেডিট’ ভাগ হওয়ার ফলে ছোট ও মাঝারি এজেন্সিগুলোর জন্য তাদের কর্মদক্ষতা প্রমাণ করা এবং লাইসেন্স নবায়ন করা সহজ হবে।

সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত রিক্রুটিং সেক্টরকে আরও বেশি পেশাদার করার একটি প্রয়াস। যদি এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ যাত্রার খরচ কমবে এবং প্রতারণার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।