Home নির্বাচন প্রবাসের মাটিতে দেশের ভোট: মাস্কাটের প্রবাসীদের চোখে নতুন স্বপ্ন

প্রবাসের মাটিতে দেশের ভোট: মাস্কাটের প্রবাসীদের চোখে নতুন স্বপ্ন

মাহবুবুল হক, মাস্কাট: ওমানের রাজধানী মাস্কাটের রুউই (Ruwi) এলাকা। প্রতি শুক্রবার ও ছুটির দিনগুলোতে এখানে হাজার হাজার বাংলাদেশির মিলনমেলা বসে। তবে আজকের আড্ডাটা একটু ভিন্ন। চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠার সাথে সাথে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন এবং হাতে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক ‘পোস্টাল ব্যালট’।
 ‘এখন আমরাও অংশীদার’: রুউই থেকে সরেজমিনে
মাস্কাটের একটি নির্মাণ সংস্থায় কর্মরত কুমিল্লার সন্তান মোরশেদ আলম। রুউই’র একটি ক্যাফেতে বসে তিনি তার স্মার্টফোনে দেখাচ্ছিলেন নির্বাচন কমিশনের কনফার্মেশন মেসেজ। মোরশেদ বলেন: “গত ১২ বছর ওমানে আছি। আগে ভোট আসত, ভোট যেত—আমাদের কোনো খবর থাকত না। এবার অনলাইনে নিবন্ধন করার পর যখন ব্যালট পেপারটা হাতে পেলাম, মনে হলো সত্যি আমি এই দেশের নাগরিক। আজ বিকালেই আমি আমার ভোটটি পোস্ট করে দেব।”
ওমানে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি
ওমানে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বাস করেন। মাস্কাট, সালালাহ এবং সোহারে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে এবার পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের সহযোগিতায় অনেক সাধারণ শ্রমিকও প্রযুক্তিগত বাধা পেরিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
সালালাহ থেকে আসা ট্যাক্সি চালক আকবর হোসেন জানান: “আমরা যারা প্রবাসে কষ্ট করি, আমাদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে সবাই কথা বলে। কিন্তু আমাদের মতামতের দাম আগে কেউ দেয়নি। পোস্টাল ব্যালট আমাদের সেই সম্মানটা দিয়েছে। আমরা এমন কাউকে বেছে নিতে চাই যে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সংসদে তুলবে।”
 চ্যালেঞ্জ ও আকাঙ্ক্ষা
তবে সব কিছুই যে মসৃণ, তা নয়। কিছু প্রবাসীর মধ্যে ব্যালট সময়মতো দেশে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে। মাস্কাটের হামরিয়া এলাকার প্রবাসী ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন: “ব্যালট পেপার হাতে পেতে একটু দেরি হয়েছে অনেকের। ওমান পোস্ট বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এটা সময়মতো নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে আমরা কিছুটা চিন্তিত। তবে সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা ১০০ ভাগ নম্বর দেব।”
ওমান প্রবাসীদের দাবি: ‘প্রবাসী কোটা’ ও সুরক্ষা
এই প্রতিবেদনের জন্য কথা বলার সময় প্রায় সব প্রবাসীই একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। তারা চান, কেবল ভোট দেওয়াই নয়, ভবিষ্যতে সংসদে প্রবাসীদের জন্য ‘সংরক্ষিত আসন’ বা কোটা ব্যবস্থা চালু করা হোক। তাদের মতে, সরাসরি ভোট দেওয়ার এই সুযোগটি সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ।
মাস্কাট দূতাবাসের ভূমিকা
ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াটি সফল করতে তারা প্রবাসীদের বিভিন্নহেল্পডেস্কের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করেছেন। বিশেষ করে যারা স্মার্টফোন ব্যবহারে দক্ষ নন, তাদের জন্য কমিউনিটি ভলান্টিয়াররা কাজ করছেন।  মাস্কাটের তপ্ত বালু আর রুউই’র জনাকীর্ণ গলি—সবখানেই এখন বাংলাদেশের নির্বাচনের আমেজ।
প্রবাসীরা মনে করছেন, এই পোস্টাল ব্যালট কেবল একটি কাগজ নয়, বরং দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়ার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।