Home কলকাতা মমতার “২২৬ পার” বনাম এক্সিট পোলের মিশ্র আভাস

মমতার “২২৬ পার” বনাম এক্সিট পোলের মিশ্র আভাস

কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট গ্রহণ গত ২৯ এপ্রিল শেষ হয়েছে। আগামী ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা এক চাঞ্চল্যকর দাবি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস অনায়াসেই ২২৬টির বেশি আসন জয় করবে।
মমতার বিস্ফোরক দাবি ও অভিযোগ
ভোট শেষ হওয়ার একদিন পর অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল একটি ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই সমীক্ষাগুলোকে “পেইড” এবং “বিজেপির অফিস থেকে তৈরি করা” বলে অভিহিত করেছেন। মমতার ভাষ্যমতে:
তৃণমূল কংগ্রেস এবার ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সমর্থনে ২২৬ থেকে ২৩০টি আসন পেতে পারে।
বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকার টাকা, পেশিশক্তি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
শ্রমিক দিবস এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও রেকর্ড সংখ্যক ভোটার (প্রায় ৯২.৬৭%) ভোট দেওয়ায় তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি তাঁর দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে গণনা কেন্দ্রে ইভিএম (EVM) পাহারা দেওয়া এবং গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সজাগ থাকা হয়। তাঁর আশঙ্কা, গণনার সময় কারচুপির চেষ্টা হতে পারে।
এক্সিট পোলের পূর্বাভাস: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
মুখ্যমন্ত্রী জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হলেও বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার এক্সিট পোল কিন্তু অন্য কথা বলছে। অধিকাংশ সংস্থাই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সমানে সমান বা বিজেপির কিছুটা এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে:
টুডেস চাণক্য: এই সংস্থাটি বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, বিজেপি ১৯২টি (± ১১) আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে, যেখানে তৃণমূল আটকে যেতে পারে ১০০টির কাছাকাছি আসনে।
পোল অফ পোলস: বিভিন্ন সমীক্ষার গড় বলছে, বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ই ১৪৫টি করে আসন পেতে পারে, যা একটি ত্রিশঙ্কু বিধানসভার ইঙ্গিত দেয়।
পিপলস পালস (ব্যতিক্রম): একমাত্র এই সংস্থাটি তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বলেছে, তাদের মতে তৃণমূল ১৭৭-১৮৭টি আসন পেতে পারে।
অন্যান্য সংস্থা: চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস, ম্যাট্রিজ এবং পি-মার্ক-এর মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে ১৫০ থেকে ১৭৫টির মধ্যে আসন দিয়ে এগিয়ে রেখেছে।
হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
২০২৬-এর এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন বজায় রাখার লড়াই, অন্যদিকে বিজেপির প্রথমবার ক্ষমতায় আসার মরিয়া চেষ্টা। এই নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
সব জল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ৪ মে (সোমবার)। সেদিনই জানা যাবে বাংলার মসনদে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চতুর্থ ইনিংস শুরু করবেন, নাকি বিজেপির হাত ধরে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com