Home কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের মসনদে কে? সোমবার ভাগ্যপরীক্ষা

পশ্চিমবঙ্গের মসনদে কে? সোমবার ভাগ্যপরীক্ষা

 ইভিএম ও স্ট্রংরুমে কড়া পাহারা

কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভাগ্য এখন ‘যন্ত্রবন্দি’। দুই দফায় (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন অপেক্ষা কেবল ফল ঘোষণার। আগামী ৪ মে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনার মহাযজ্ঞ। ওইদিনই স্পষ্ট হবে আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গের মসনদ কার দখলে থাকছে।
গণনা প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ: যেভাবে আসবে ফলাফল
  • নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, গণনার দিন সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্ট্রংরুম খোলা হবে।
  • পোস্টাল ব্যালট: গণনার শুরুতেই ডাকযোগের ভোট বা পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হয়।
  • ইভিএম গণনা: পোস্টাল ব্যালট গণনার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ভোট গণনা।
  • প্রাথমিক আভাস: সাধারণত গণনা শুরুর চার ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ দুপুর ১২টার মধ্যেই ট্রেন্ড বা প্রাথমিক আভাস পাওয়া যায়। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া আসনগুলোতে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় থাকে।
ইভিএম ও ভিভিপ্যাট: স্বচ্ছতার ঢাল
এবারের নির্বাচনেও ভোটাররা ইভিএমের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথেই ছিল ভিভিপ্যাট (VVPAT) মেশিন। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে বোতাম টিপার পর ভিভিপ্যাট স্ক্রিনে সাত সেকেন্ডের জন্য দেখতে পেয়েছেন যে ভোটটি সঠিক জায়গায় পড়েছে কি না। ভোটগ্রহণ শেষে বুথ এজেন্টদের সামনেই মেশিনগুলো ‘সিল’ করে সরাসরি স্ট্রংরুমে পাঠানো হয়েছে।
স্ট্রংরুমে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা
বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি জেলার নির্দিষ্ট গণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমগুলোতে ইভিএম রাখা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে জনরায়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না ঘটে।
প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রথম দফার (২৩ এপ্রিল) এবং দ্বিতীয় দফার (২৯ এপ্রিল) ভোট শেষে সব দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্য এখন ইভিএমে তালাবন্দি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিছু কেন্দ্রে লড়াই দুই প্রধান দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, অনেক জায়গায় ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ৪ মে সকাল থেকেই গণনার প্রতিটি রাউন্ড শেষে স্পষ্ট হতে শুরু করবে কোন দল ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারছে।