মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের ভূমিকা ভেঙে পড়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও কঠোর অবস্থানের কারণে আস্থা হারানো ওমানের জায়গায় পাকিস্তান এখন নতুন সম্ভাব্য সেতুবন্ধনকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ওমান ছিল নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী। ২০১১ সালে ইরানে আটক আমেরিকানদের মুক্তি থেকে শুরু করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (JCPOA) পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ওমান ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও চলেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইরান-আমেরিকার প্রতি কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণে ওমানের প্রতি আস্থা হারিয়েছে উভয় পক্ষ।
গত মাসের ২৮ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ওমান ধারাবাহিকভাবে তিনটি কঠোর বিবৃতি দেয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবাকে অভিনন্দন জানানো একমাত্র উপসাগরীয় রাষ্ট্রও ছিল ওমান। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই ওমানকে আর নিরপেক্ষ মনে করছে না। ইরান তো সরাসরি ড্রোন হামলা চালিয়ে ওমানকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বার্তা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সম্ভাব্য নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও পাকিস্তানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া জনসংখ্যা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন, যা ইরানের কাছে পাকিস্তানকে “বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্র” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগী। গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়। এমনকি পাকিস্তান তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও দিয়েছিল। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন।
ভৌগোলিকভাবে ইরানের কাছাকাছি এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি না থাকায় পাকিস্তানকে ইরান আরও উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখছে। ফলে ওমানের জায়গা নিয়ে পাকিস্তান এখন নতুন সম্ভাব্য সেতুবন্ধনকারী।










