২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে, ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok)-কে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ব্যবহারকারীরা এই টুলটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের পোশাক পরিবর্তন করে বা ডিজিটালভাবে বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রধান ঘটনাসমূহ:
অপব্যবহার ও ডিজিটাল সহিংসতা: রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা গ্রোক-কে দিয়ে নারী ও শিশুদের যৌন আবেদনময়ী ছবি তৈরি করাচ্ছে।
এমনকি ১৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ-কিউই অভিনেত্রী নেল ফিশার-এর বিকিনি পরিহিত ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ইলন মাস্কের প্রাক্তন সঙ্গীর অভিযোগ: লেখক ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার (যিনি ইলন মাস্কের এক সন্তানের মা) অভিযোগ করেছেন যে, গ্রোক তার শৈশবের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করছে।
তিনি একে “ভয়াবহ ও অবৈধ” বলে অভিহিত করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন।
সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ: * ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU): গ্রোক-এর এই ‘স্পাইসি মোড’-কে “নোংরা ও অবৈধ” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এক্স-কে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাজ্য (Ofcom): ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় এক্স কেন ব্যর্থ হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে।
ভারত: ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক্স-কে তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।
ব্রাজিল ও মালয়েশিয়া: দেশগুলোও এই টুলের ব্যবহার স্থগিত বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
গ্রোক-এর ‘স্পাইসি মোড’ ও কারিগরি ব্যর্থতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে গ্রোক-এ যুক্ত হওয়া নতুন ‘স্পাইসি মোড’ এই সমস্যার মূল কারণ। রয়টার্সের এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ব্যবহারকারীরা ১০২ বার মানুষকে বিকিনি পরা অবস্থায় দেখানোর অনুরোধ পাঠিয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে গ্রোক সরাসরি এই নির্দেশ পালন করেছে। যদিও xAI (গ্রোক-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান) দাবি করেছে, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি হতে পারে এবং তারা এটি সমাধানের চেষ্টা করছে।
ইলন মাস্কের প্রতিক্রিয়া
শুরুতে ইলন মাস্ক এই বিতর্ক নিয়ে উপহাসমূলক প্রতিক্রিয়া দেখালেও (হাসির ইমোজি ব্যবহার করে), পরে ৩ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানান যে, যারা গ্রোক ব্যবহার করে অবৈধ কন্টেন্ট তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা মজা করছি না।”
বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও এক্স কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে, তবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে যে, প্ল্যাটফর্মটিতে এখনও নারী ও শিশুদের অবমাননাকর ছবিগুলো রয়ে গেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও এআই ওয়াচডগ গ্রুপগুলো দাবি করছে, এই পরিস্থিতি আগেই অনুমেয় ছিল কিন্তু এক্স যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেনি।