বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:
শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষিকা পাঁচ মাসের গর্ভবতী এবং দাবি করেছেন, তার গর্ভস্থ সন্তানের পিতা ওই নাবালক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পকসো আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ২৫ এপ্রিল পুনের একটি আবাসন থেকে। সেদিন বিকেলে নিখোঁজ হয়ে যায় ১৩ বছর বয়সি এক ছাত্র। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক তরুণী ছেলেটিকে সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, ওই তরুণীই তার গৃহশিক্ষিকা।
পাঁচ দিন পর গুজরাট-রাজস্থান সীমান্তে তাদের খোঁজ মেলে। তার আগেই তারা ভাদোদরা, আহমেদাবাদ, দিল্লি, জয়পুর ও বৃন্দাবন ঘুরে বেড়ায়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষিকা জানান, তারা প্রথমে সুরাটে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন, এরপর ভাদোদরার এক হোটেলে ছিলেন। দু’জায়গাতেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।
গ্রেপ্তারের পর মেডিক্যাল পরীক্ষায় জানা যায়, ওই শিক্ষিকা ২০ সপ্তাহের গর্ভবতী। তিনি দাবি করেন, নাবালক ছাত্রই তাঁর সন্তানের পিতা। পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করেছিল, ওই কিশোর জৈবিকভাবে পিতৃত্বে সক্ষম কি না। তবে পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, তার মধ্যে সেই ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ওই শিক্ষিকা গত তিন বছর ধরে ছাত্রটিকে পড়াচ্ছিলেন। গত এক বছরে কেবল ওই ছাত্রকে পড়ানোর মধ্য দিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পালানোর আগে কিশোরটি নিজেই শিক্ষিকাকে জামাকাপড় দেয় এবং তিনিই পালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আদালতে গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে তা মঞ্জুর করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই গর্ভাবস্থা অভিযুক্ত নারীর মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে মামলার তদন্ত চলবে আগের নিয়মেই। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পকসো আইনের পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২) ধারায় অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল হাতে এলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










