বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর এখন প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন এক যৌথ অভিযানের পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এর সাফল্য তুলে ধরেছে প্রশাসন। উদ্ধার হয়েছে বিদেশি পিস্তল থেকে শুরু করে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির কারখানা।
অভিযানের পর মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় পুলিশ ও র্যাব বাদী হয়ে মোট ৩টি মামলা দায়ের করেছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের এই মামলাগুলোতে অভিযানে আটক ২২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো: রাসেল অভিযানের ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, অপরাধীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে:
- আগ্নেয়াস্ত্র: ৩টি (বিদেশি পিস্তল, দেশীয় পিস্তল ও এলজি)।
- পাইপগান: ২৭টি এবং ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ।
- গোলাবারুদ: ১,১১৩ রাউন্ড গুলি, ৬১টি কার্তুজ ও ৩০টি ম্যাগাজিন।
- বিস্ফোরক: ১১টি তাজা ককটেল।
- কারখানা: পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে ৭.৬২ মিমি ও ৯ মিমি বোরের গুলি রয়েছে যা সাধারণত মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। এগুলো কোনো সরকারি উৎস থেকে আসেনি, যা ইঙ্গিত করে জঙ্গল সলিমপুর একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কের ‘হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সেখানে আপাতত পূর্ণাঙ্গ থানা নয় বরং একটি তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হবে। তার ভাষায়, “থানা হওয়াই মূল বিষয় নয়, এলাকার ওপর প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন ঝুলে থাকা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যেমন— কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সেখানে বসবাসকারী প্রায় এক লাখ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।
র্যাবের মতে, অভিযানের ‘ফেজ-১’ (প্রবেশ ও উদ্ধার) সফলভাবে শেষ হয়েছে। এখন চলছে ‘ফেজ-২’ বা প্রশাসনিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কাজ। অপরাধীদের পুনরুত্থান রুখতে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও আলী নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে ৩৬০ জন সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।










