ধনবাড়ীতে ১৭ কোটি টাকার মহাপ্রকল্প
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল: বাংলাদেশের আনারসের রাজধানী খ্যাত মধুপুর গড়াঞ্চলের কৃষিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি। এই ল্যাবরেটরি চালু হলে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে দেশেই উৎপাদিত হবে বিশ্বমানের রোগমুক্ত চারা, যা পাল্টে দেবে উত্তর-মধ্য জনপদের কৃষি অর্থনীতি।
২০২৭ সালে শুরু হবে নতুন দিগন্ত
সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অধীনে এই গবেষণাগারটি নির্মিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই ল্যাবে বাণিজ্যিকভাবে চারার উৎপাদন শুরু হবে। বর্তমানে ল্যাবে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্ববাজার লক্ষ্য: এমডি-২ আনারসের জয়জয়কার
মধুপুরের আনারস ইতিমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল মানসম্মত ও রোগমুক্ত চারার অভাব। ধনবাড়ীর এই ল্যাবে উৎপাদিত হবে ফিলিফাইনের বিশ্ববিখ্যাত ‘এমডি-২’ জাতের আনারসের চারা।
বিশেষত্ব: এমডি-২ জাতের আনারস অত্যন্ত সুমিষ্ট, আকর্ষণীয় সোনালি রঙের এবং এটি দীর্ঘ সময় পচনমুক্ত থাকে।
রপ্তানি সম্ভাবনা: রোগমুক্ত চারা ব্যবহারের ফলে আনারসের আকার ও মান অভিন্ন হবে, যা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানির পথ প্রশস্ত করবে।
কেবল আনারস নয়, ল্যাবে যা যা তৈরি হবে:
এই ল্যাবরেটরি শুধু আনারসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখান থেকে কৃষকরা পাবেন:
- উচ্চফলনশীল কলা: জি-নাইন (G-9) জাতের কলার চারা, যা অল্প সময়ে দ্বিগুণ ফলন দেয়।
- ফুলের চারা: জারবেরা ও অর্কিডের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে ‘ফ্লোরিকালচার জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
- অন্যান্য ফল: রোগমুক্ত পেঁপে, মাল্টা এবং বিভিন্ন সবজির হাইব্রিড চারা।










