Home Third Lead বরেন্দ্র অঞ্চলে নামছে পানির স্তর: আদা-পেঁয়াজ ও ফল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

বরেন্দ্র অঞ্চলে নামছে পানির স্তর: আদা-পেঁয়াজ ও ফল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রাজশাহী: দেশের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে বরেন্দ্র জনপদে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২৫টি উপজেলাকে ‘পানি সংকট এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই চরম সংকট মোকাবিলায় এবং ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে অধিক সেচনির্ভর বোরো ধান চাষ কমিয়ে কৃষকদের আদা, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন ফলের বাগান করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।
সংকটের মুখে ২৫ উপজেলা
দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে রাজশাহী বিভাগের এই তিন জেলায় পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে এসব এলাকায় সাধারণ টিউবওয়েল তো দূরের কথা, গভীর নলকূপ দিয়েও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫টি উপজেলাকে রেড জোন বা পানি সংকট এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকাগুলোতে পানির স্তর পুনর্ভরণ (Recharge) হওয়ার তুলনায় উত্তোলন অনেক বেশি হচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বোরো চাষে নিরুৎসাহ কেন?
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক কেজি বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার প্রায় শূন্য হয়ে পড়ছে। পানি সংকট তীব্র হওয়ায় এখন আর বোরো আবাদ চালিয়ে নেওয়া পরিবেশগতভাবে টেকসই নয়। তাই বিকল্প হিসেবে কম সেচ লাগে এমন ফসলের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প ফসলে নতুন সম্ভাবনা

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বোরোর পরিবর্তে আদা, পেঁয়াজ এবং দানাদার ফসল চাষে পানির প্রয়োজন হয় অত্যন্ত কম। এছাড়াও লাভজনক আমের বাগান, মাল্টা ও ড্রাগন ফলের আবাদ এই অঞ্চলের মাটির জন্য উপযোগী।

মসলা জাতীয় ফসল: আদা ও পেঁয়াজ চাষে বোরোর তুলনায় মাত্র ১০-১৫ শতাংশ পানি খরচ হয়। বর্তমানে বাজারে মসলার উচ্চমূল্য থাকায় কৃষকরা আর্থিকভাবেও বেশি লাভবান হচ্ছেন।
ফল চাষ: বিশেষ করে উচ্চফলনশীল আম ও মাল্টা বাগান বরেন্দ্র অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দিচ্ছে। ফলের বাগানে ড্রিপ ইরিগেশন বা ফোঁটায় ফোঁটায় সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানির অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

সরকারি উদ্যোগ ও পরামর্শ

বিএমডিএ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে এসব এলাকায় কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। সেচ সাশ্রয়ী ফসলের প্রদর্শনী প্লট তৈরি এবং বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের অস্তিত্ব রক্ষায় পানির স্তর ধরে রাখা এখন জাতীয় চ্যালেঞ্জ। যদি এখনই বোরো চাষ কমিয়ে বিকল্প শস্য বহুমুখীকরণ (Crop Diversification) না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই কৃষির স্বার্থে কৃষকদের আধুনিক ও স্বল্প সেচনির্ভর চাষাবাদে অভ্যস্ত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com