সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটার সূক্ষ্ম কৌশল
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন পূরণে বুকিং মানি দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অনেক ক্রেতার দুঃস্বপ্ন। একশ্রেণীর অসাধু ডেভলপার চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে এমন কিছু প্রযুক্তিগত ও আইনি কৌশল ব্যবহার করে, যার মারপ্যাঁচে পড়ে সাধারণ ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বুকিং ফরম এবং প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যবহৃত অস্পষ্ট শব্দগুলোই পরবর্তীতে বড় হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতারণার অন্যতম কৌশল হলো ‘হিডেন কস্ট’ বা গোপন খরচ। ফ্ল্যাটের প্রতি স্কয়ার ফুটের দাম আকর্ষণীয় দেখালেও চুক্তিনামায় অতি সূক্ষ্মভাবে ইউটিলিটি কানেকশন (গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ), পার্কিং স্পেস এবং মেম্বারশিপ ফি বাবদ বড় অংকের অর্থ যোগ করা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় এই অতিরিক্ত চার্জগুলো মূল দামের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা বুকিংয়ের সময় ক্রেতাকে জানানো হয় না।
আরেকটি বড় ফাঁদ হলো ‘ফ্লেক্সিবল পেমেন্ট প্ল্যান’। অনেক ডেভলপার কিস্তিতে ফ্ল্যাট বিক্রির সময় এমন শর্ত জুড়ে দেয় যে, একটি কিস্তি দিতে সামান্য দেরি হলেই বিশাল অংকের জরিমানা বা সরাসরি বুকিং বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। অথচ একই চুক্তিতে ডেভলপার যদি সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে না পারে, তবে তাদের শাস্তির বিষয়টি থাকে একেবারেই অস্পষ্ট। একে ‘একপাক্ষিক চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ‘স্যাম্পল ফ্ল্যাট’ দেখিয়ে ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে যখন ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তখন সিলিংয়ের উচ্চতা, জানালার সাইজ বা বারান্দার নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। চুক্তিতে ‘স্থপতি বা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনে নকশা পরিবর্তনের অধিকার ডেভলপার সংরক্ষণ করে’—এই একটি বাক্যের দোহাই দিয়ে গ্রাহকের কাঙ্ক্ষিত নকশা বদলে দেওয়া হয়।
এছাড়া রাজউকের অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করে পরবর্তীতে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে জটিলতা সৃষ্টি করাও এই অসাধু চক্রের নিয়মিত কাজ।
সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ঘটে ল্যান্ড ওনার্স শেয়ার এবং ডেভলপার শেয়ারের বিক্রয়যোগ্য ফ্ল্যাট নিয়ে। অনেক সময় ডেভলপার মালিকের অংশের ফ্ল্যাটও সাধারণ ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়। জমি মালিকের সাথে ডেভলপারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তখন ক্রেতা মাঝপথে টাকা দিয়েও আইনি জটিলতায় ফেঁসে যান।
তাই বুকিং দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ভূমি নামজারি, নকশা অনুমোদন এবং ডেভলপারের সাথে জমি মালিকের আমমোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাচাই করা অপরিহার্য।
আবাসন খাতের এমন সব খবর এবং সচেতনতামূলক প্রতিবেদন পড়তে businesstoday24.com ফলো করুন