Home Second Lead কক্সবাজারে পরিবেশ দূষণকারী হোটেল বন্ধের নির্দেশ

কক্সবাজারে পরিবেশ দূষণকারী হোটেল বন্ধের নির্দেশ

বাঁকখালী নদীর দখলদার উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নৌপরিবহন উপদেষ্টার

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার: কক্সবাজারে কোনো হোটেল নদী বা পরিবেশ দূষণ করলে শুধু জরিমানায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বাঁকখালী নদীর দখলদারদের তালিকা করে সমন্বিতভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

শনিবার সকালে কক্সবাজার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক বাঁকখালী নদী দখলমুক্তকরণের লক্ষ্যে বিশেষ সমন্বয় সভা’ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সালাহউদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদসহ জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে আগামী চার মাসের মধ্যে উচ্ছেদ এবং নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নদীটিকে ছয় মাসের মধ্যে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’ ঘোষণা ও সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। আদালতের সেই নির্দেশের এক সপ্তাহের মাথায় কক্সবাজার সফর করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, আরএস জরিপ অনুযায়ী বাঁকখালী নদীর সীমানা নির্ধারণ করে নদীর প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করে চার মাসের মধ্যে উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া নদী ও নদীসংলগ্ন এলাকা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ইজারা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পূর্বে প্রদত্ত সব ইজারা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদী এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন ফিরিয়ে আনার কথাও উল্লেখ রয়েছে রায়ে।

রায়ে আরও বলা হয়, নদীর গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটিকে চলমান মামলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর—প্রতি বছরের জানুয়ারি ও জুলাই মাসে—উক্ত নির্দেশাবলীর অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দীকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।