বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আজ ১ মে, মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট চত্বরে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে ঝরে যায় অনেক প্রাণ। সেই আত্মত্যাগের রক্তভেজা পথ ধরেই বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক পটভূমি
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে শ্রমিকদের অমানবিক পরিবেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। শিকাগোর শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে ৩ মে এক ধর্মঘট আহ্বান করেন। ৪ মে হে মার্কেট চত্বরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ পুলিশের দমনপীড়ন শুরু হয় এবং শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
মে দিবস কেবল একটি ছুটির দিন নয়, বরং এটি শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার অঙ্গীকারের দিন। আজকের আধুনিক বিশ্বে আট ঘণ্টা কর্মদিবস, সাপ্তাহিক ছুটি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের যে সুযোগগুলো শ্রমিকরা ভোগ করছেন, তার ভিত্তি রচিত হয়েছিল এই দিনেই। এটি বিশ্বের কোটি কোটি মেহনতি মানুষের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক।
আমাদের দায়বদ্ধতা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের শ্রমিক সমাজ। তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদান করাই হোক এবারের মে দিবসের মূল শপথ। বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও রক্তিম শুভেচ্ছা।