Home জাতীয় বেসরকারি প্যাথলজি ল্যাবে ৯ দফা জরুরি নির্দেশনা

বেসরকারি প্যাথলজি ল্যাবে ৯ দফা জরুরি নির্দেশনা

  • হাতে লেখা স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক
  • তদারকি জোরদারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কঠোর বার্তা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:    দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের মানোন্নয়ন এবং রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৯টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই আদেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কঠোর নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা শুধুমাত্র বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আবেদনে উল্লিখিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসারের সরাসরি নিজ হাতে দেওয়া স্বাক্ষর থাকতে হবে। কোনোভাবেই ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর বা অনলাইন রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।

এছাড়া ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা বা অস্থায়ী কেন্দ্র হতে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না। যন্ত্র থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসা বা অটো-জেনারেটেড রিপোর্টগুলো অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে যাচাই করে স্বাক্ষরসহ প্রদান করতে হবে।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকদের অবশ্যই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধিত মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। ল্যাবরেটরির সকল মেশিনের নিয়মিত ‘ক্যালিব্রেশন’ নিশ্চিত করে তার প্রমাণাদি এবং পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্যাবলি সম্বলিত রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ল্যাবের বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি না করে যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে এবং সকল যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্টের ক্ষেত্রে ‘রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইনস ফর মেডিকেল ডিভাইসেস বাংলাদেশ-২০১৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি ল্যাবগুলোতে ভুয়া বা ভুল রিপোর্ট প্রদানের হার অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের হাতে লেখা স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রতিটি রিপোর্ট যাচাইয়ের আওতায় আসবে, যা ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমাবে এবং চিকিৎসকের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করার ফলে যন্ত্রপাতির সঠিক রিডিং নিশ্চিত হবে, যার ফলে বিভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষার ফলাফলের বৈষম্য দূর হবে।

এছাড়া যত্রতত্র নমুনা সংগ্রহ বন্ধ হলে নমুনার গুণগত মান বজায় থাকবে এবং উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে। সর্বোপরি উন্নত গাইডলাইন অনুসরণের ফলে রোগীরা বিশ্বমানের সেবা পাবেন এবং বেসরকারি ল্যাবগুলোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।

এই আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এর অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সকল বিভাগীয় পরিচালক এবং সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মহাপরিচালকের অনুমোদিত এই নির্দেশনা অমান্যকারী ল্যাবগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে