বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আমূল পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ও শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান (R&D Institute) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘জানি ও বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০’ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে একটি স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্বজুড়ে সমজাতীয় সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করবে।
ভুল কাঠামোর অবসান ও নতুন পথচলা
বিগত বছরগুলোতে জ্বালানি খাতের অসংলগ্নতার সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে অনেক কিছু ভুল লোকেশনে এবং ভুল স্ট্রাকচারে হয়েছে। এখন থেকে আমাদের একদম নতুন করে চিন্তা করতে হবে। কোনো কিছু প্রচলিত নিয়মে হয়ে আসছে বলেই যে সেভাবে চলতে হবে, তার কোনো মানে নেই।
আগামীতে যেন কোনো ভুল না হয়, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় গবেষণা জরুরি।”
মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০: তিন ধাপের লক্ষ্যমাত্রা
জানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপস্থাপিত এই মহাপরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে:
প্রথম ধাপ (২০২৬-২০৩০): অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানো।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ (২০৩০-২০৫০): হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া অবকাঠামো, জিওথার্মাল এনার্জি এবং সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানের ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই বিশাল চাহিদা মেটাতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: দক্ষ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ ০.৬২ থেকে ০.৩৫ টনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ মোট ১,৬০০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।
বড় বিনিয়োগের হাতছানি: এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ৭০–৮৫ বিলিয়ন এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১০৭.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল আইন’ বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ এবং ‘রিনিউবেল এনার্জি পলিসি ২০২৫’ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিকল্প জ্বালানি উৎসের ওপর গবেষণা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষ তাগিদ দেন।










