Home সারাদেশ নোনা জলের জীবনযুদ্ধ: গহিরা উপকূলে গভীর সমুদ্রে যাত্রার তোড়জোড়

নোনা জলের জীবনযুদ্ধ: গহিরা উপকূলে গভীর সমুদ্রে যাত্রার তোড়জোড়

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, আনোয়ারা: শীতের শান্ত সকাল। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শঙ্খ নদীর তীরের গহিরা উপকূলে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই মৎস্যজীবীদের। সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা যান্ত্রিক নৌকাগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসাজ রব। লক্ষ্য—গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ।

গহিরা ঘাটে সারি সারি মেকানাইজড বোট বা ট্রলার দাঁড়িয়ে। প্রতিটি ট্রিপ থেকে ফেরার পর এই নৌকাগুলোর ওপর দিয়ে ধকল যায় অনেক। তাই নতুন করে সাগরে ভাসার আগে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ নৌকার কাঠ মেরামত করছেন, কেউ ইঞ্জিনে মবিল দিচ্ছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলছে জাল নিয়ে; বিশাল আকৃতির জালগুলো তীরে বিছিয়ে জেলেরা ব্যস্ত ছেঁড়া অংশ সেলাই করতে।

এখন ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় জেলেদের লক্ষ্য মূলত সাদা মাছ। গভীর সমুদ্র থেকে তারা ধরে আনেন: বড় পোয়া ও কোরাল,  রূপচাঁদা ও লাল চন্দনা, লাক্ষা ও আইড়, শুকানোর জন্য প্রচুর পরিমাণ লইট্টা ও ছুরি মাছ।

গহিরা থেকে ছেড়ে যাওয়া এই নৌকাগুলো একনাগাড়ে ১০ থেকে ১২ দিন সাগরে অবস্থান করে। এর জন্য ট্রলারে মজুত করতে হয় কয়েকশ ক্যানভর্তি ডিজেল, প্রচুর বরফ এবং জেলেদের জন্য কয়েক সপ্তাহের শুকনো খাবার ও চাল-ডাল।

ঘাটে কর্মরত এক মৎস্যজীবী জানান, “ইলিশের মৌসুম না হলেও এখন সাগরে অন্য মাছের দেখা পাওয়া যায়। তবে শীতের সময় সাগরের পানি ঠাণ্ডা থাকে এবং মাঝেমধ্যে কুয়াশার কারণে দিক নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও পেটের তাগিদে আর উপকূলের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে আমরা সাগরে নামি।”

আনোয়ারার গহিরা এলাকাটি চট্টগ্রামের অন্যতম বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে ধরা পড়া সামুদ্রিক মাছ শুধু স্থানীয় বাজারে নয়, বরং ট্রাকবোঝাই হয়ে চলে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। শীতকালীন এই মৎস্য আহরণ স্থানীয় শুঁটকি মহালগুলোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ের মাছ দিয়েই তৈরি হয় উন্নত মানের শুঁটকি।

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই মানুষদের জীবন চাকা ঘোরে ওই গভীর সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে। গহিরা ঘাটের এই ব্যস্ততা কেবল মাছ ধরার প্রস্তুতি নয়, এটি উপকূলীয় হাজারো মানুষের জীবিকার স্পন্দন।