বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার একটি বৃহত্তর কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা ও অভিযুক্তরা
প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চিহ্নিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী: এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও সামিট গ্রুপ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
পাচারের ভয়াবহ পরিসংখ্যান (২০০৯–২০২৩)। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী দেশ থেকে অর্থ পাচারের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন:
মোট পাচার: আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বার্ষিক গড়: প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও এমএএলটি (MALT)
পাচারকৃত অর্থের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং।
এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (MALT) সম্পাদনের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে।
বর্তমান অগ্রগতি ও আইনি পদক্ষেপ
অর্থ উদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে সিআইডি, এনবিআর এবং শুল্ক গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে। হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী:
আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতি
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সত্তা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
“অতীতে আইনের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক অনেক কিছু করা হয়েছে, কিন্তু আমরা প্রচলিত আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাই। জনগণের অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।”










