বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বর্ণনায় দুই ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। চট্টগ্রামের সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দীন মুহাম্মদ এমদাদ দাবি করেছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে তিনি চোখ, মুখ ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। এ বিষয়ে গত ১৭ জুন খুলশী থানায় করা মামলায় তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেন।
কিন্তু একই ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা উঠে আসে ঢাকার একটি মামলায়। গত ২০ মার্চ ঢাকার আদালতে করা মামলায় বাদী হাশেম রাজু দাবি করেন, সাইফুদ্দীন গত বছরের ৪ আগস্ট সকালে রাজধানীর পরীবাগ মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তিনি নিজেই সাইফুদ্দীনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামে নিয়ে যান। তবে সাইফুদ্দীন এ মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন এবং মামলাটিকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট” আখ্যা দিয়েছেন।
রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইফুদ্দীন বলেন, ঢাকার মামলার বিবরণ সম্পূর্ণ ‘আষাঢ়ে গল্প’। তাঁর অভিযোগ, মামলাটি করে হাশেম বাণিজ্য করছেন।
তিনি জানান, এ বছর তিনি এইচএসসি সমমান (আমিল) পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হাশেম রাজু মানবাধিকারকর্মীর পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিদেশে চিকিৎসার আশ্বাস দেন। এ সময় কয়েকটি সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে হাশেম বাদী সেজে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। এ বিষয়ে হাশেমকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাশেম রাজু নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা পরিচয় দেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সাইফুদ্দীন ঢাকাতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং আদালতে মামলার জন্য তিনি নিজেই কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, খুলশী থানায় দায়ের করা মামলায় একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধারদের নাম থাকায় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম তাঁকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।
এ ছাড়া থানার সাবেক ওসি আফতাব হোসেনের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় তাঁকে থানায় ডেকে এনে একটি শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধি পরিচয়ে মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় পরদিন তাঁকে না জানিয়েই আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে তিনি এ ঘটনায় আদালতে নারাজি দেন।
যোগাযোগ করা হলে সাবেক ওসি আফতাব হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।










