Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমারে জান্তাশাসিত নির্বাচনের প্রথম ধাপ: ভোটারশূন্য কেন্দ্র

মিয়ানমারে জান্তাশাসিত নির্বাচনের প্রথম ধাপ: ভোটারশূন্য কেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রবিবার সামরিক জান্তা পরিচালিত সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দিনভর কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।

জনমনে চরম উদাসীনতা এবং মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর উপস্থিতির মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ।

ফাঁকা ভোটকেন্দ্র, ব্যস্ত জনপদ: সংবাদ সংস্থা ‘মিজিমা’ (Mizzima)-এর সরেজমিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াঙ্গুনের বোটাতং, কিয়াউকতাদা, থিংগানগিউন এবং থানলিন জনপদের মূল কেন্দ্রগুলো সারা দিনই প্রায় জনশূন্য ছিল।

সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। যেসব এলাকায় ভোটকেন্দ্র নেই, সেসব আবাসিক এলাকা ও রাস্তায় মানুষের আনাগোনা ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনের চিত্র ছিল একেবারেই নিস্তব্ধ। কিছু কিছু কেন্দ্রে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাত্র ৪ থেকে ১০ জন ভোটারকে ভোট দিতে দেখা গেছে।

নিরাপত্তার বাড়বাড়ন্ত, সাধারণের অনীহা: বোটাতং জনপদের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটারের চেয়ে পুলিশের সংখ্যাই বেশি। আমার কোনো বন্ধুবান্ধব ভোট দিতে যায়নি। এই ভুয়া নির্বাচন নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।”

এদিকে, থিংগানগিউন জনপদে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে শেষ বিকেলে কর্মকর্তাদের তোড়জোড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক জায়গায় বাসিন্দাদের সরাসরি ওয়ার্ড প্রশাসনিক অফিসে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে, মায়ানগোন জনপদে যেখানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জান্তাপন্থী ইউএসডিপি (USDP) প্রার্থী ডক্টর থেট খাইং উইন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানে প্রায় ৩০ জন সামরিক ও সাদা পোশাকের নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

নীরব ধর্মঘট ও বয়কট: নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এবং সামরিক জান্তাকে বৈধতা না দেওয়ার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিপ্লবী গোষ্ঠী ‘নীরব ধর্মঘট’ বা ‘অংশগ্রহণ না করার’ প্রচার চালিয়েছিল। ক্ষমতাচ্যুত দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (NLD)-সহ প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বয়কট করেছে।

জনগণের ঘরে থাকার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই বয়কট কর্মসূচি অনেকাংশেই সফল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সংকুচিত এলাকা: জান্তা সমর্থিত সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া, চীন, ভারত ও বেলারুশসহ বিভিন্ন দেশের ১৩৯ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে সংঘাতের কারণে নির্বাচনের আওতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন (UEC) আরও ৯টি জনপদকে ‘ভোটহীন’ তালিকায় যুক্ত করেছে। এর ফলে সারা দেশের ৩৩০টি জনপদের মধ্যে বর্তমানে ৬৫টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না।

মিয়ানমারে তিন ধাপের এই নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো আগামী বছরের ১১ এবং ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।