Home অন্যান্য তরুণ প্রজন্মের মন জয়ে ভিডিও-ফার্স্ট সাংবাদিকতা

তরুণ প্রজন্মের মন জয়ে ভিডিও-ফার্স্ট সাংবাদিকতা

সংবাদপত্রের নতুন দিগন্ত

মোস্তফা তারেক, নিউ ইয়র্ক: সংবাদপত্রের চিরাচরিত রূপ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এক সময় সকালের কফি আর হাতে ধরা কাগজের পত্রিকা সমার্থক হলেও, বর্তমানের ‘জেন-জি’ এবং ‘জেনারেশন আলফা’র কাছে সংবাদের সংজ্ঞা সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ কলাম বা কয়েক হাজার শব্দের প্রতিবেদনের চেয়ে এখনকার পাঠকরা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও বা একটি তথ্যবহুল ইনফোগ্রাফিকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এই পরিবর্তনকে পুঁজি করেই বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলো এখন ‘ভিডিও-ফার্স্ট’ কৌশলে হাঁটছে।
টেক্সট থেকে ভিডিওতে রূপান্তর
রয়টার্স ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় ৪০ শতাংশই সংবাদের প্রাথমিক উৎস হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে টিকটক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে। এই বিশাল পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান বা আল-জাজিরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের নিউজরুমে বিশেষায়িত ‘শর্ট-ফর্ম ভিডিও’ টিম তৈরি করেছে। যেখানে প্রথাগত রিপোর্টিংয়ের চেয়ে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে শর্ট-ফর্ম কন্টেন্ট?
দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি: টিকটক বা ইউটিউব শর্টসে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি সংবাদের সারমর্ম পাওয়া সম্ভব।
সহজবোধ্য উপস্থাপন: জটিল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে মোশন গ্রাফিক্স বা ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে সহজ করে তোলা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত সংযোগ: একজন সাংবাদিক যখন সরাসরি ক্যামেরার সামনে এসে কথা বলেন, তখন পাঠকদের সাথে একটি মানবিক ও ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘ টেক্সটে অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
তবে এই পরিবর্তনের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মাত্র এক মিনিটের ভিডিওতে সংবাদের গভীরতা বজায় রাখা এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও, বিজ্ঞাপনের বাজার এখন ভিডিও কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকে থাকায় সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য এটি এখন আর কেবল বিকল্প নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা হবে আরও বেশি ইন্টারঅ্যাক্টিভ, যেখানে পাঠকরা কেবল সংবাদ পড়বেন না, বরং দেখবেন এবং শুনবেন।