আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ উত্তেজনার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার এই খবরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।
বাজার পরিস্থিতির চিত্র
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০ শতাংশেরও বেশি কমে ৮৮-৮৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর আগে যুদ্ধের আশঙ্কায় এই দাম ব্যারেল প্রতি ১১৮ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) দামও নিম্নমুখী। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবাহিত হয়। এই রুটটি সচল হওয়ায় সরবরাহের অনিশ্চয়তা কেটে গেছে, যা গ্যাসের দাম কমাতে সাহায্য করেছে।
কেন এই দরপতন?
- ১. সরবরাহ নিশ্চিত হওয়া: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পার হয়। এটি বন্ধ থাকায় বাজারে যে কৃত্রিম সংকট তৈরির ভয় ছিল, রুটটি খোলায় তা দূর হয়েছে।
- ২. উত্তেজনা প্রশমন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান অস্থিরতা সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার দিকে মোড় নেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে তেলের মজুত কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- ৩. বিপজ্জনক প্রিমিয়াম হ্রাস: যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে বীমা কোম্পানিগুলো জাহাজের ওপর যে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম আরোপ করেছিল, রুটটি নিরাপদ হওয়ায় তা কমতে শুরু করেছে। এর ফলে তেলের পরিবহন খরচও কমে আসবে।










