বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি আবারও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। শনিবার সকালে প্রণালীটি অতিক্রম করার সময় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর অতর্কিত গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরপরই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ও বর্তমান অবস্থা
ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, আক্রান্ত দুটি জাহাজই ভারতীয় মালিকানাধীন।
জাহাজের বিবরণ: একটি জাহাজ ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী সুপার ট্যাংকার, যা প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল বহন করছিল।
হামলার ধরণ: ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর গানবোটগুলো কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ক্ষয়ক্ষতি: একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানায় বেশ কিছু কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, উভয় জাহাজের নাবিক ও ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজগুলো তাদের পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্বস্তি ও পরবর্তী সংঘাত
শুক্রবার ইরান ‘সদিচ্ছামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলে দীর্ঘ সাত সপ্তাহ পর আটটি ট্যাঙ্কারের একটি বড় কনভয়কে প্রণালী পার হতে দেখা যায়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার আশায় যখন সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল, তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, উত্তেজনার মুখে ইতোমধ্যে অন্তত ২৩টি জাহাজ তাদের যাত্রা বাতিল করে ওমান উপকূলে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইরান ও আমেরিকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইরান এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি: ১. মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর চারপাশে অবৈধ অবরোধ ও ‘জলদস্যুতা’ চালাচ্ছে। ২. শুক্রবারের সীমিত চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরও আমেরিকা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার না করায় ইরান এই কঠোর অবস্থানে ফিরে গেছে। ৩. ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খতাম আল-আম্বিয়া জয়েন্ট মিলিটারি কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালীটি এখন থেকে পুনরায় সামরিক বাহিনীর ‘কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ থাকবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ না ইরানের সাথে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বজায় থাকবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই জলপথ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।