উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ অনেক সময় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই এটি শরীরে বাসা বাঁধে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি বিকেলের বা সন্ধ্যার খাদ্যতালিকায় তিনটি প্রাকৃতিক পানীয় যোগ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হতে পারে।
বিট জুস
বিটের রসে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে প্রবেশের পর নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে, যা ধমনীর ওপর চাপ কমায়। নিয়মিত বিট জুস পান করা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি পান করা উচিত।
ক্যামোমাইল চা
ক্যামোমাইল চা ক্যাফেইনমুক্ত এবং এটি শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। ভালো ঘুম উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই চায়ের শান্তিদায়ক গুণাগুণ মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া এটি এলডিএল কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করে ধমনীকে সুস্থ রাখে।
লো-ফ্যাট বা কম চর্বিযুক্ত দুধ
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্তনালীকে শিথিল রাখতে এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের ওপর চাপ কমায়। তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে ননীমুক্ত বা লো-ফ্যাট দুধ বেছে নেওয়া এবং চিনি এড়িয়ে চলা জরুরি। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তারা বিকল্প হিসেবে ওট মিল্ক বা আমন্ড মিল্ক গ্রহণ করতে পারেন।
স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা বুঝতে নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা জরুরি। সাধারণত ১৪০/৯০ mmHg বা এর বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়। আদর্শ রক্তচাপের মাত্রা হলো ১২০/৮০ mmHg এর নিচে।