ডি এন রাকেশ, আগরতলা: সদস্য সমাপ্ত টিটিএএডিসি (TTAADC) নির্বাচনের ফলাফল ত্রিপুরার আঞ্চলিক ও রাজ্য রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ স্পষ্ট করে তুলেছে।
আদিবাসী ভোটের একক মেরুকরণ
এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, ত্রিপুরার পাহাড়ী অঞ্চলে প্রদ্যোৎ মাণিক্য দেববর্মার নেতৃত্বাধীন তিপ্রা মথা এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। পূর্বের নির্বাচনে ১৮টি আসন থেকে বেড়ে এবার ২৪টিতে পৌঁছানো নির্দেশ করে যে, আদিবাসী ভোটাররা অন্য কোনো বিকল্পের পরিবর্তে তিপ্রা মথার ‘গ্রেটার টিপরাল্যান্ড’ বা সাংবিধানিক সমাধানের দাবির ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন।
বিজেপির জনসমর্থনে ভাটা
রাজ্য সরকারে মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি ও তিপ্রা মথা আলাদা লড়াই করেছিল। গতবার ৯টি আসন (পরবর্তীতে ৮টি) পেলেও এবার বিজেপির আসন সংখ্যা চারে নেমে আসা দলটির জন্য একটি বড় সংকেত। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, পাহাড়ের ভোটাররা জাতীয় দলের তুলনায় আঞ্চলিক আবেগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে আইপিএফটি (IPFT)-র মতো দলগুলোর অস্তিত্ব কার্যত বিলীন হয়ে যাওয়ায় সেই ভোটও মথার ঝুলিতে গিয়েছে।
বিরোধী শূন্য পাহাড়
এক সময়ের শক্তিশালী বামফ্রন্ট এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শক্তি কংগ্রেস এই নির্বাচনে কোনো আসনই লাভ করতে পারেনি। এর মানে হলো, ত্রিপুরার আদিবাসী রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ দ্বি-মুখী (মথা বনাম বিজেপি) থেকে এক-মুখী ধারায় রূপান্তরিত হচ্ছে। বাম-কংগ্রেসের এই ব্যর্থতা তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা বুঝতে না পারার ঘাটতিকেই সামনে আনে।
‘থানসা’ বা ঐক্যের প্রভাব
প্রদ্যোৎ দেববর্মা বারবার ‘থানসা’ বা জাতিগত ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। উচ্চ ভোটার উপস্থিতি (৮৩ শতাংশের বেশি) এবং বড় জয়ের ব্যবধান প্রমাণ করে যে, এই ঐক্যের ডাক ভোটারদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের ওপর নিজেদের দাবি আদায়ে তিপ্রা মথা আরও কঠোর দরকষাকষি করার অবস্থানে চলে এল।
গ্রেটার টিপরাল্যান্ড দাবির ভবিষ্যৎ
এই বিশাল জয় তিপ্রা মথার মূল রাজনৈতিক দাবি ‘গ্রেটার টিপরাল্যান্ড’-কে নতুন গতি দেবে। যেহেতু তারা এখন পরিষদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে ত্রিপুরা চুক্তি বা দিল্লির সাথে আলোচনায় তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারবে।
আরও খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।