Home আগরতলা ত্রিপুরায় জোট ভাঙাই কাল: টিটিএএডিসিতে বিজেপির ভরাডুবি

ত্রিপুরায় জোট ভাঙাই কাল: টিটিএএডিসিতে বিজেপির ভরাডুবি

ডিএন রাকেশ, আগরতলা: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং তা শাসক দল বিজেপির জন্য চরম বিপর্যয়ের বার্তা নিয়ে এসেছে।
২৮ আসন বিশিষ্ট এই স্বশাসিত সংস্থার নির্বাচনে প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মার নেতৃত্বাধীন ‘তিপ্রা মোথা’ একাই ২১টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিজেপি মাত্র ৫টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসনগুলো আইপিএফটি এবং নির্দলদের দখলে গেছে। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এই নির্বাচনেও তাদের শূন্যস্থান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
একগুঁয়েমি ও জোট ভাঙার মাসুল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই ভরাডুবির প্রধান কারণ হলো জোট রক্ষা করতে না পারা। এর আগে আইপিএফটি এবং তিপ্রা মোথার সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের জোট থাকলেও, এবারের এডিসি নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বিজেপির ‘একগুঁয়েমি’র কারণে সেই সম্পর্ক টেকেনি।
২৮টি আসনের সবকটিতেই এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত বিজেপির জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটের দিন গুলি, বোমাবাজি এবং ছাপ্পা ভোটের ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও জনজাতি ভোটাররা আঞ্চলিক আবেগ ও ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবিতেই সিলমোহর দিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক তার আগে প্রতিবেশী রাজ্যে বিজেপির এই বিপর্যয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ সামনে আনছে:
  • আঞ্চলিক শক্তির জয়গান: ত্রিপুরার ফলাফল প্রমাণ করেছে যে, শক্তিশালী আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও আবেগের সামনে জাতীয় দলগুলো কতটা অসহায় হতে পারে। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে, যারা নিয়মিতভাবে ‘বহিরাগত’ বনাম ‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্বে শান দিয়ে থাকে।
  • আদিবাসী ভোট ব্যাংকে ধস: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের আদিবাসী প্রধান আসনগুলোতে বিজেপির বিশাল ভিত্তি রয়েছে। ত্রিপুরার জনজাতি এলাকায় বিজেপির এই হার আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে বিরূপ বার্তা দিতে পারে, যা তৃণমূল বা অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি লুফে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
  • মডেল ত্রিপুরা তত্ত্বের অসারতা: বাংলার ভোটে বিজেপি বারবার ত্রিপুরাকে সুশাসনের ‘মডেল’ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। কিন্তু খোদ ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক নির্বাচনে দলের এই বিপর্যয় বাংলার ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা নিয়ে যেতে পারে।
মাঠ পর্যায়ের প্রভাব
ভোটের দিন দফায় দফায় সংঘর্ষে বহু বিজেপি ও তিপ্রা মোথা কর্মী আহত হয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়া প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের নিচুতলার কর্মীদের মনোবলেও এই ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন দলের অভ্যন্তরের অনেক নেতা।
ত্রিপুরার এই নির্বাচন বুঝিয়ে দিল যে স্থানীয় আবেগ ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে অবজ্ঞা করা জাতীয় দলগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত দফার ভোটের আগে এই ধাক্কা সামলাতে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব কোনো নতুন কৌশল অবলম্বন করে কি না।

ত্রিপুরার ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে আরও এক্সক্লুসিভ খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন