কলকাতা: কলকাতার রাস্তায় এক ক্লান্ত ও পিপাসার্ত ঘোড়া তাপদাহে লুটিয়ে পড়ার ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে দেখা যায়, ঘোড়াটি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পরও মালিক তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে গাড়ি টানাতে বাধ্য করছেন।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিনেত্রী-পরিচালক পূজা ভাট সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে লিখেছেন,
“হৃদয়বিদারক। এক ঘোড়া গরম ও ক্লান্তিতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে, তবুও তাকে চলতে বাধ্য করা হয়। দয়া করে এই নিষ্ঠুর ঘোড়া-টানা গাড়িগুলি বন্ধ করুন এবং মানবিক ই-কারেজ চালু করুন।
Heartbreaking. A horse collapses on Kolkata’s streets from heat & exhaustion & is pushed to continue.
Hon @MamataOfficial @KolkataPolice @SwapanDebnath98 @derekobrienmp Beseech you'll to ban these cruel horse-drawn carriages & switch to humane, progressive e-carriages 🙏🙏🙏 pic.twitter.com/Fn73cdPfNd— Pooja Bhatt (@PoojaB1972) April 30, 2025
এই ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করে পশু অধিকার সংস্থা । সংস্থাটি জানায়, তারা কলকাতা পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানায় এবং পরে পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে।
সংস্থাটি ইনস্টাগ্রামে লেখে,”কেউই এমন নিষ্ঠুরতা সহ্য করার জন্য জন্মায় না! ঘোড়াটি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ধসে পড়ে। দয়া করে @mamataofficial ও @kolpolice-কে বার্তা পাঠান যেন তারা ব্যবস্থা নেয়। মুম্বাইয়ের মতো কলকাতাতেও পরিবেশবান্ধব ই-কারেজ চালু হোক।”
অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী মন্তব্য করেন,
“@petaindia আমি কীভাবে সাহায্য করতে পারি, দয়া করে জানান।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পশুপ্রেমীরা প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন—
“এদের শাস্তি হচ্ছে না কেন?”,
“এই দৃশ্য হৃদয় ভেঙে দেয়। এখনও কেন বিনোদনের জন্য প্রাণীদের ব্যবহার করা হচ্ছে?”
তৃষা সেনগুপ্ত, প্রাণী অধিকার কর্মী বলেন,
“এই দৃশ্য কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। যেই শহর সাহিত্য আর মানবিকতার জন্য গর্ব করে, সেই শহরের রাস্তায় এক অসহায় ঘোড়াকে এইভাবে মার খেতে দেখে আমি হতবাক। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
রাজীব পাল, ‘প্রাণবন্ধু’ সংস্থার সদস্য, বলেন,
“আমরা বহুদিন ধরে ঘোড়া-টানা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছি। কিন্তু যতদিন না শহরের মানুষ ও প্রশাসন সচেতন হবে, ততদিন এই ঘোড়ারা নিঃশব্দে কষ্ট পেতে থাকবে।”
রুকসানা পারভীন, কলেজছাত্রী ও পশুপ্রেমী, জানান,
“ভিডিওটা দেখার পর সারারাত ঘুমাতে পারিনি। ওর চোখে যে ভয় ছিল, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।”
অনিন্দ্য বসু, পশু চিকিৎসক ও পরিবেশ কর্মী, বলেন,
“গরমে প্রাণী কিভাবে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, সেটা আমরা চিকিৎসকরা জানি। প্রশাসনের উচিত গ্রীষ্মে এই ধরনের কাজ বন্ধ রাখা।”
সোমা রায়, কলকাতার এক নিয়মিত কর্মজীবী নারী বলেন,
“আমি প্রতিদিন দেখি এই ঘোড়াগুলো কেমন ক্লান্ত, রক্তপাত করা পা নিয়ে টানছে গাড়ি। আজ ভিডিওতে একটাকে দেখানো গেছে, কিন্তু এমন অসংখ্য প্রাণী নিঃশব্দে কষ্ট পায়।”
কলকাতা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, কেবল একটি মামলায় থেমে না থেকে, ঘোড়া-টানা গাড়ি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে ইলেকট্রনিক বা পরিবেশবান্ধব বিকল্প চালুর উদ্যোগ নিতে হবে প্রশাসনকেই।
-সূত্র: টেলিগ্রাফ










