Home আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বনাম অধিকার: এআই নিয়ে ইউরোপের দ্বিধা

প্রযুক্তি বনাম অধিকার: এআই নিয়ে ইউরোপের দ্বিধা

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন করছে, অন্যদিকে তেমনি এটি নাগরিকদের গোপনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের নিরাপত্তায় বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গৃহীত ‘এআই অ্যাক্ট’ নামের একটি ঐতিহাসিক আইন এ উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এই আইনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে। মূলত, নজরদারি প্রযুক্তি, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ পদ্ধতি এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবহারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাই এই আইনের উদ্দেশ্য।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা চাই প্রযুক্তি হোক মানবকেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং ন্যায্য। কোনোভাবেই যেন তা মানুষের অধিকার খর্ব না করে।”

নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোও বলছে, অপ্রতুল নিয়ন্ত্রণের কারণে ইতোমধ্যে কিছু দেশে সরকারের এআই ব্যবহার ব্যক্তি পর্যায়ে নজরদারি, ভুল তথ্য বিশ্লেষণ এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। ইইউ আশঙ্কা করছে, চীন ও রাশিয়ার মতো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দেশগুলোতে এআই ব্যবহার গণতন্ত্র বিরোধী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ইউরোপীয় আদর্শের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যন্ত্রের বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহার বা সীমান্তে নজরদারি প্রযুক্তি এসবই মানবিক ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এ কারণে ইইউ চাইছে, প্রযুক্তির বিকাশ হোক নিয়ন্ত্রিত, দায়বদ্ধ এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল উপায়ে।

তবে প্রযুক্তি খাতের কিছু বিশ্লেষক বলছেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে ইউরোপে উদ্ভাবনের গতি হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনায় ইউরোপ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই দ্বন্দ্বের মাঝেও ইইউর বার্তা স্পষ্ট—মানবকল্যাণ ও ন্যায়বিচারের মূলনীতি বজায় রেখেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে হবে।