তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা:
পৌষের শেষভাগে এসে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না, উল্টো হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকা। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে রাজপথ, আর কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।
জনজীবনে অস্বস্তি ও ভোগান্তি: রোববার মধ্যরাত থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে ঢাকার আকাশ। সোমবার সকালেও কুয়াশার তীব্রতা । অনেক এলাকায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল ও অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তি ছড়িয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজে নামা রিকশাচালক রহমত আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, “বাবা, হাত-পা তো একদম বরফ হয়ে যাচ্ছে। প্যাডেল মারতে পারি না, আঙুল অবশ হয়ে আসে। পেটের দায়ে বের হইছি, কিন্তু ঠান্ডায় যাত্রীও কম।”
একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর পার্ক ও ফুটপাতগুলোতে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল ও শিশু হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কেন এই পরিস্থিতি? আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সাথে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় এবং এর একটি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় বাতাসের আদ্রতা ও কুয়াশার পরিমাণ বেড়েছে। যদিও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা আছে, তবে কুয়াশার চাদর না সরলে রোদের তেজ অনুভূত হবে না, ফলে শীতের অনুভূতি রয়েই যাবে।
সামনে কি আরও বাড়ছে শীত? আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, শীতের এই দাপট এখনই কমছে না। চলতি জানুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও সিলেটসহ বেশ কিছু জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যা ক্রমান্বয়ে রাজধানীর ওপর দিয়েও অনুভূত হতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের ধরন |
তাপমাত্রা সীমা |
মৃদু |
৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
মাঝারি |
৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
তীব্র |
৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস |
অতি তীব্র |
৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে |










