Home আন্তর্জাতিক ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ বদল: বিপাকে ব্রিটিশ বন্দিরা, ফিরছে কি শামিমা ?

ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ বদল: বিপাকে ব্রিটিশ বন্দিরা, ফিরছে কি শামিমা ?

শামিমা বেগম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সিরিয়ার ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে বন্দি থাকা অন্তত ছয়জন ব্রিটিশ নারী ও নয়জন শিশুকে গোপনে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (SDF) নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পগুলো থেকে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়েছে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’।
প্রত্যাবাসনের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে সিরিয়ার নতুন সরকার এসডিএফ (SDF)-এর কাছ থেকে ভূখণ্ড দখল করে নিচ্ছে।
এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে আইএস বন্দিরা পালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাজ্য সরকার চুপিচুপি তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনছে।
উল্লেখ্য যে, কুর্দি বাহিনী ইতিমধ্যেই সিরিয়ার অন্যতম বড় ডিটেনশন ক্যাম্প ‘আল-হাওল’ (al-Hawl)-এর নিয়ন্ত্রণ সিরীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। আল-হাওলের প্রাক্তন ডিরেক্টর জিহান হানান এই হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে ‘বিশৃঙ্খলাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, হস্তান্তরের সময় যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় বহু আইএস সংশ্লিষ্ট নারী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছেন।
শামিমা বেগমের বর্তমান অবস্থা
সবচেয়ে আলোচিত ব্রিটিশ নাগরিক শামিমা বেগম বর্তমানে ইরাকি সীমান্ত সংলগ্ন ‘আল-রোজ’ (al-Roj) ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। এই ক্যাম্পটি এখনো এসডিএফ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শীঘ্রই তা সিরীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল থাকায় তার প্রত্যাবাসন নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েই গেছে। তবে তার প্রাক্তন আইনজীবী তাসনিম আকুনজি মনে করেন, ক্যাম্পগুলো সিরীয় সরকারের অধীনে যাওয়ায় এখন একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান ও মানবিক উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক নীতি অপরিবর্তিত থাকলেও, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু নারী ও শিশুকে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘রিপ্রাইভ’ (Reprieve)-এর প্রধান নির্বাহী মায়া ফোয়া বলেন:

“যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়েছে এবং ব্রিটেনকেও একই কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছে। ডিটেনশন ক্যাম্পগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে, তাই ব্রিটিশ নাগরিকদের সেখানে ফেলে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”

ক্যাম্প কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আল-রোজ ক্যাম্পে এখনো অন্তত ২৯ জন ব্রিটিশ নারী ও শিশু রয়ে গেছেন। ক্যাম্পটি সিরীয় সরকারের অধীনে যাওয়ার আগে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com