Home First Lead বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত: আমীর খসরু

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন রাজনীতির অনন্য দৃষ্টান্ত: আমীর খসরু

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বেগম খালেদা জিয়াকে আপসহীন রাজনীতির এক অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহ বা কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করে গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে লড়াই করার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা তাঁকে বিশ্বনেতাদের কাতারে নিয়ে গেছে।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ত্যাগের মহিমায় বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তুলনা
আমীর খসরু তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো নেতারা যেভাবে আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগও সেই উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাধারণ গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় লড়াইয়ে কাটিয়েছেন। প্রায় ৩০ বছর তিনি গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে সংগ্রাম করেছেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, বেগম জিয়ার জ্বালিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে, যা অত্যন্ত মূল্যবান।
আগামী দিনের কঠিন রাজনীতির সতর্কবার্তা
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর জীবন সহজ হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আরও কঠিন হতে পারে। তাই বেগম জিয়ার আদর্শ ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
বিশিষ্টজনদের স্মৃতিচারণ
শোকসভায় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও মানবিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন:
গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা : তিনি বলেন, বেগম জিয়া কোনো বিশেষ দলের নন, বরং দেশের সাধারণ মানুষের নেতা ছিলেন। তাঁর জানাজায় মানুষের ঢলই তার প্রমাণ।
এম এ মালেক (সম্পাদক, দৈনিক আজাদী): জন সি. ম্যাক্সওয়েলের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বেগম জিয়া শুধু পথ দেখাননি, নিজে সেই পথে চলেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সাহসের প্রতীক।
ডা. রাজীব রঞ্জন (ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার): তিনি বেগম জিয়াকে এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিহিত করেন এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই চলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ যে অপরিহার্য তিনি তা কর্ম ও উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন।
মেয়র বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের হৃদয়ের নেত্রী। তিনি বাংলাদেশকে শুধু ভালোবাসেননি, বাংলাদেশকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ত্যাগ না করে তিনি বলেছিলেন, ‘বাঁচতে হলে বাংলাদেশে বাঁচবো, মরতেও হলে বাংলাদেশেই। এই কথাটাই প্রমাণ করে তাঁর দেশপ্রেম কতটা গভীর ও আন্তরিক ছিল।
ডা. শাহনাজ মাবুদ শিলভীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন তুরুস্কের কনসাল জেনারেল সালাউদ্দীন কাশেম খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, ইস্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইদ আল নোমান, চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এস এম তারেক, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিন বোদি ভিক্ষু, চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্যের সভাপতি স্বপন মজুমদার, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, মহানগর পিপি এড. মফিজুল হক ভূইয়া, মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. কামরুন্নাহার দস্তগীর, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাজহারুল হক শাহ, থিয়েটার ইন্সটিটিউটের পরিচালক কবি অভীক ওসমান, সিজেকেএস সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা এম এ কাশেম ইসলামাবাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, ডিসি সাউথ কবির আহমেদ, ইয়ুথ ভয়েস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, এমইবি গ্রুপের পরিচালক শোয়েব রিয়াদ, উইমেন চেম্বারের পরিচালক বেবি হাসান, দক্ষিণ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের সভাপতি দেবব্রত পাল দেবু, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার উছমান চৌধুরী, মহানগর এনসিপির সদস্য সাদিয়া আফরিন, কোরান তেলোয়াত করেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদর ইমাম মাওলানা আহমেদুল হক।