Home আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট: দুবাইয়ে পোষা প্রাণী ফেলে পালাচ্ছেন মালিকরা

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: দুবাইয়ে পোষা প্রাণী ফেলে পালাচ্ছেন মালিকরা

ঝক্কি এড়াতে পোষা প্রাণীকে মেরে ফেলার অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) উপসাগরীয় দেশগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণভয়ে অনেক বিদেশি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দা দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন।
তবে এই তাড়াহুড়োর মধ্যে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে অবলা পোষা প্রাণীরা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালানোর সময় অনেক মালিক তাদের প্রিয় বিড়াল বা কুকুর রাস্তায় ফেলে যাচ্ছেন।
অনেকে এভাবে পোষাপ্রাণীকে রেখে চলে গেছেন।
দুবাইয়ের পশু উদ্ধারকারী সংস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে পরিত্যক্ত প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ‘কে-নাইন ফ্রেন্ডস দুবাই’ (K9 Friends Dubai) জানিয়েছে, তাদের কাছে প্রাণী ফেলে যাওয়ার খবর এত বেশি আসছে যে তারা বর্তমানে দিশেহারা।
দুবাইয়ের পেট বোর্ডিং সার্ভিস ‘দ্য বার্কিং লট’ (The Barking Lot)-এর মালিক অদিতি গৌরী জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা স্বাভাবিকের তুলনায় শত শত বেশি পরিত্যক্ত প্রাণী উদ্ধার করছেন।
তিনি বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ নমনীয় হতে, কিন্তু অনেক কেন্দ্রই এখন আর নতুন প্রাণীর দায়িত্ব নিতে পারছে না।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, খাবার বা পানি ছাড়াই অনেক কুকুরকে ল্যাম্পপোস্টের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, অনেক মালিক তাদের সুস্থ পোষা প্রাণীকে ‘ইউথানasia’ বা ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার জন্য পশু চিকিৎসকদের (ভেটেরিনারি) কাছে নিয়ে আসছেন।
একজন স্বেচ্ছাসেবী আক্ষেপ করে বলেন, “কিছু মালিক স্থানান্তর খরচ (Relocation cost) বা ঝক্কি এড়াতে সুস্থ প্রাণীকে মেরে ফেলার অনুরোধ করছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক।”
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ওমান সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে পালানোর চেষ্টাকারী অনেক বাসিন্দাকে জানানো হয়েছে যে, তারা তাদের পোষা প্রাণীকে সীমান্ত পার করে নিতে পারবেন না। এর ফলে মরুভূমির মধ্যেই অনেক প্রাণীকে ফেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।
বর্তমানে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরের পরিস্থিতি থমথমে। একদিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্ক, অন্যদিকে রাজপথে অসহায় পোষা প্রাণীদের আর্তনাদ—সব মিলিয়ে এক মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।