পবিত্র মক্কানগরীর প্রবেশদ্বার থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত বিস্তৃত ৩.৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মাসার মক্কা’ (Masar Makkah) প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং ইসলামী ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে তৈরি এই প্রকল্পটি মক্কার আবাসন ও বাণিজ্যিক খাতের চেহারা চিরতরে বদলে দিতে যাচ্ছে।
আবাসন বিপ্লব: ৪০ হাজার নতুন কক্ষের সমাহার
প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর আবাসন সক্ষমতা। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি ওমরাহ যাত্রী ও হজযাত্রী সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এখানে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সব হোটেল।
বিলাসবহুল হোটেল চেইন: হিলটন (Hilton), ম্যারিয়ট (Marriott), কেম্পিনস্কি (Kempinski) এবং তাজ (Taj)-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো এখানে তাদের ফ্ল্যাগশিপ হোটেল নির্মাণ করছে।
আবাসন সক্ষমতা: সব মিলিয়ে প্রায় ৪০,০০০ হোটেল রুম এবং অ্যাপার্টমেন্ট এই প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে, যা মক্কার বর্তমান আবাসন সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।
সরাসরি সংযোগ: প্রতিটি হোটেল এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে হজযাত্রীরা সরাসরি আধুনিক ওয়াকওয়ে (Pedestrian Path) ব্যবহার করে ভিড় এড়িয়ে হারাম শরীফে পৌঁছাতে পারেন।
বাণিজ্যিক সুবিধা: শপিং ও লাইফস্টাইল হাব
মাসার মক্কা কেবল থাকার জায়গা নয়, এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রিটেইল এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
আন্তর্জাতিক শপিং মল: এখানে নির্মাণ করা হচ্ছে একাধিক মেগা-মল, যেখানে বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের আউটলেট থাকবে। আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় খাবারের স্বাদ দিতে কয়েক শ’ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে এই করিডোরে স্থান পাচ্ছে। পুরো এলাকাটি একটি ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে কেনাকাটা থেকে শুরু করে বুকিং পর্যন্ত সব সেবা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আধুনিক অবকাঠামো ও পরিবেশ
এই প্রকল্পের মূল সৌন্দর্য হলো এর পরিকল্পিত পরিবেশ। মরুভূমির রুক্ষতা দূর করতে এখানে প্রচুর পরিমাণে সবুজায়ন (Landscaping) করা হয়েছে।
পায়ে হাঁটার পথ: ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেন্ট্রাল প্লাজা বা ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হলেও আধুনিক প্রযুক্তিতে শীতল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
আন্ডারগ্রাউন্ড ইউটিলিটি: বিদ্যুৎ, পানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাটির নিচে সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মক্কার ইতিহাসে প্রথম।
অর্থনৈতিক প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৬ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ সৌদি আরবের নন-অয়েল জিডিপিতে (Non-oil GDP) বড় অবদান রাখবে। এটি কেবল পর্যটন নয়, বরং হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মক্কার অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।