তারিক-উল- ইসলাম, শ্রীমঙ্গল: ভাড়াউড়া চা বাগানের ছায়াবৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব চা শ্রমিক মায়া রানী যখন তাঁর চয়ন করা কুঁড়িগুলোর দিকে তাকান, তখন তাঁর চোখে এক অদ্ভুত মমতা খেলে যায়। গত তিন দশক ধরে ভোরের শিশির ভেজা পায়ে তিনি বাগানে নামছেন।
২০ পঁচিশ বছর ধরে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তুলে আসা মায়া রানী এই বিশেষ ‘হোয়াইট টি’ বা সিলভার নিডল সম্পর্কে বলেন, “বাবা, এই কুঁড়ি তোলা বড় কষ্টের কাজ। সলপ (সাধারণ চা) তুলতে জান কবুল করা লাগে না, কিন্তু এই কুঁড়ি বাছতে গেলে দুই চোখের মণি স্থির রাখা লাগে। একটা কাপের চা বানাইতে যে হাজার হাজার কুঁড়ি লাগে, তা তুলতে আমাদের সারাটা সকাল কাবার হয়ে যায়। হাতের আঙুল ব্যথা হয়ে গেলেও ডগাগুলো ছিঁড়তে হয় খুব সাবধানে, যাতে নখের দাগ না লাগে। আমরা তো কেবল ঘাম ঝরাই, কিন্তু এই এক কাপ চায়ের ভেতরে আমাদের হাজার হাজার বারের হাতের ছোঁয়া মিশে থাকে।”
মায়া রানীর এই পরিশ্রমের পেছনে যে বিজ্ঞান কাজ করে, তা ব্যাখ্যা করেছেন আন্তর্জাতিক চা বিশেষজ্ঞ এবং ব্লেন্ডার ডেভিড হ্যামিলটন। তিনি এই বিশেষ প্রক্রিয়ার আভিজাত্য নিয়ে বলেন:
“একটি কাপে যখন আপনি প্রায় দুই হাজার কুঁড়ির নির্যাস পান করছেন, তখন আপনি আসলে একটি গাছের সবচেয়ে প্রাণবন্ত কোষগুলো গ্রহণ করছেন। যখন কেবল কচি কুঁড়ি (Buds) ব্যবহার করা হয়, তখন তাতে ক্যাটেচিন এবং এল-থিনাইন (L-theanine) এর মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এটি কেবল পানীয় নয়, এটি একটি রিফ্রেশমেন্ট যা সরাসরি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। বিশ্বের নিলাম বাজারে এই ধরণের চায়ের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার কারণ হলো এর দুর্লভ চয়ন পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের বিশুদ্ধতা।”










