ব্রুনাইয়ের ঈদুল ফিতর উদযাপন বা ‘হারি রায়া’ দেশটির আভিজাত্য এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশেল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ছোট কিন্তু ধনী দেশটিতে ঈদের উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়।
ব্রুনাইয়ে ঈদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সুলতানের রাজপ্রাসাদ ‘ইস্তানা নুরুল ইমান’ (Istana Nurul Iman)। ঈদের প্রথম দিনটি সাধারণত পরিবারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে টানা তিন দিন রাজপ্রাসাদ সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। হাজার হাজার মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সুলতান এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি হাত মেলাতে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেন।
এটি ব্রুনাইয়ের নাগরিকদের জন্য বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। প্রাসাদে আসা প্রতিটি অতিথির জন্য থাকে রাজকীয় খাবার এবং ছোটদের জন্য সুলতানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় বিশেষ ‘এয়িদিয়া’ বা সেলামি।
খাবারের ক্ষেত্রে ব্রুনাইয়ে ‘লেমাং’ (বাঁশের ভেতর রান্না করা ভাত) এবং ‘রেনডাং’ খুবই জনপ্রিয়। তবে ব্রুনাইয়ের নিজস্ব ঐতিহ্যে ‘অম্বুয়াত’ (Ambuyat) নামক বিশেষ শ্বেতসারজাতীয় খাবারও অনেক সময় উৎসবের টেবিলে দেখা যায়। এছাড়া হরেক রকমের রঙিন মিষ্টি বা ‘কুইহ’ (Kuih) দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
পোশাকের দিক থেকে ব্রুনাইয়ের মানুষ বেশ সচেতন। পুরুষরা সাধারণত সিল্ক বা উন্নত মানের কাপড়ের ‘বাজু মেলায়ু’ পরেন এবং কোমরে ‘সিনজাপ’ (এক ধরনের রঙিন কাপড়) জড়ান। নারীরা অত্যন্ত মার্জিত এবং কারুকাজ করা ‘বাজু কুরুং’ পোশাক পরিধান করেন। শহরজুড়ে রাস্তার দুই পাশে এবং সরকারি ভবনগুলোতে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়, যা রাতে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে।
পুরো মাস রোজা রাখার পর ব্রুনাইয়ের মানুষ অত্যন্ত ধীরস্থির এবং আধ্যাত্মিক আবহে এই উৎসবটি পালন করেন। সেখানেও ‘ওপেন হাউস’ বা উন্মুক্ত দাওয়াতের সংস্কৃতি রয়েছে, যেখানে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।